দীর্ঘদিনের চেষ্টায় অর্জিত যুদ্ধবিরতি কি তবে শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়তে চলেছে? যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পালটা হামলার ঘটনা ফের মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দুই পরাশক্তির এই সরাসরি সংঘাত এখন বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই নতুন উত্তেজনা? গত কয়েক সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ প্রক্সি লড়াইয়ের বদলে সরাসরি সংঘাতের সংকেত মিলেছে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলা এবং তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথের আঘাত—এই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পরিস্থিতি। সর্বশেষ পালটা হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, যার ফলে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখন ঝুলন্ত অবস্থায়।
পরীক্ষার মুখে কূটনীতি: বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের লড়াইয়ে লিপ্ত। এই পরিস্থিতির ফলে কূটনৈতিক চ্যানেলে শান্তি আলোচনার যে প্রচেষ্টাগুলো চলছিল, তা এখন চরম পরীক্ষার মুখে। কোনো পক্ষই নতি স্বীকার করতে রাজি নয়, যার ফলে ছোট কোনো ভুল পদক্ষেপও বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণ হতে পারে।
বিশ্বের ওপর প্রভাব: এই অস্থিরতার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনীতি শুধু দুই দেশের বিষয় নয়, বরং এর প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর।
সামনের দিনগুলোই কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে? জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো বারবার দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়ে আসছে। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। শওকত-ওহিদুলের মতো স্থানীয় ইস্যুর মতোই এখানেও অবিশ্বাসের দেওয়াল অনেক উঁচুতে।





