ভারতীয় বন্ড মার্কেটকে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FIIs/FPIs) জন্য সরকারি বন্ডে (G-Sec) বিনিয়োগের ওপর থেকে লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেইন এবং উইথহোল্ডিং ট্যাক্স পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগের বিপুল পরিমাণ বহির্গমনের প্রেক্ষাপটে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর ছাড় বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সাথে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এক সময় ভারত ও আমেরিকার বন্ড ইল্ডের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৫.৯% থাকলেও, বর্তমানে তা কমে ২.৫%-এ দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে আগের মতো অতিরিক্ত রিটার্ন পাচ্ছেন না। এর ওপর যুক্ত হয়েছে মুদ্রার ঝুঁকি; টাকা ডলারের তুলনায় দুর্বল হলে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত আয়ের হার অনেকটা কমে যায়।
অর্থনীতিবিদ অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, কর ছাড় একটি ইতিবাচক সংকেত হলেও, বিনিয়োগকারীরা এখন শুধুমাত্র করের হার দেখেন না; তারা ঝুঁকি এবং রিটার্নের পুরো সমীকরণ বিশ্লেষণ করেন। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি এবং মার্কিন সুদের হার—এই প্রতিটি বিষয়ই বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলে। যদিও এই কর ছাড়ের ফলে ভারতীয় বন্ড মার্কেট বিশ্বস্তরে কিছুটা প্রতিযোগিতামূলক হবে, কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার ফেরাতে হলে কেবল কর মকুব নয়, মুদ্রার স্থায়িত্ব ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও কড়া নজর রাখতে হবে।





