ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কিম জং আনের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর এবার আন্তর্জাতিক কূটনীতির আঙিনায় নতুন গুঞ্জন— উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং আনের সঙ্গে কি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং? এই সম্ভাবনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন করে কূটনৈতিক জল্পনা।
কেন এই জল্পনা? সম্প্রতি পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্পের পর পুতিনের সাথে কিমের ঘনিষ্ঠতা উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থানে বড় প্রভাব ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কিমের সাক্ষাৎ বা বিশেষ বৈঠকের সম্ভাবনা উত্তর কোরিয়া ও চিনের পুরনো বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতামত: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে থাকতে পারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য:
আঞ্চলিক নিরাপত্তা: কোরীয় উপদ্বীপের বর্তমান অস্থিরতা এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে চিন ও উত্তর কোরিয়া একটি অভিন্ন অবস্থান নিতে পারে।
আমেরিকার প্রভাব মোকাবিলা: প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করাই শি এবং কিমের মূল লক্ষ্য হতে পারে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে দাঁড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিকে চিনের সাহায্য ও বাণিজ্যের মাধ্যমে চাঙ্গা করার বিষয়টি এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় হতে পারে।
কতটা বাস্তব এই সম্ভাবনা? যদিও বেইজিং বা পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শি জিনপিংয়ের সফরের সম্ভাবনা কেবল এশিয়া নয়, বরং ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছেও বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতির মোড়: যদি শি জিনপিং সত্যি উত্তর কোরিয়া সফরে যান, তবে তা ট্রাম্প-পুতিন যুগের পর বিশ্ব রাজনীতিতে তৃতীয় একটি মেরুকরণের ইঙ্গিত দেবে। এটি এশিয়ায় শক্তি পরীক্ষার নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





