বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল উদ্বেগ। সংস্থাটির মতে, ২০২৬ সালের এল নিনো পরিস্থিতি অতীতের অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’-র রূপ নিতে চলেছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, চরম আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি এবং কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের ওপর এর প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে?
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো ও কলকাতার গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও, স্থানীয় কিছু কারণ শহরটিকে ‘হিট আইল্যান্ড’-এ পরিণত করছে। পরিবেশবিদ সুজীব করের মতে, দূষণ, কংক্রিটের আধিক্য, জলাশয়ের অভাব এবং প্রচুর এসির ব্যবহার শহরটিকে অতিরিক্ত উত্তপ্ত করে তুলছে। বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণা তাপ শুষে নিয়ে পরিবেশকে শীতল হতে বাধা দিচ্ছে।
এবারের বর্ষা নিয়ে সবচেয়ে উদ্বেগের তথ্য সামনে এসেছে। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে সৃষ্ট এই সুপার এল নিনো ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে মৌসুমী বায়ু আন্দামান পর্যন্ত পৌঁছালেও বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে দক্ষিণবঙ্গে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প ঢুকছে না, যা বৃষ্টিপাতকে বাধাগ্রস্ত করছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, বর্তমানে যে ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হচ্ছে, তা বর্ষার প্রকৃত রূপ নয় এবং এর ফলে অস্বস্তি দূর হচ্ছে না।
কৃষিক্ষেত্রে এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। বর্ষার শুরুতে অনাবৃষ্টির ফলে উত্তর ভারত ও দক্ষিণবঙ্গে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ২৩ জুনের পর সূর্যের দক্ষিণায়নের সঙ্গে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা। তখন স্থল ও জলভাগের নিম্নচাপের প্রভাবে বর্ষা অতিসক্রিয় হয়ে হঠাতই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা চাষাবাদের জন্য নতুন সংকটের কারণ হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জল সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি পরিকল্পনায় এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। WMO-র মতে, আগাম সতর্কতা এবং সঠিক প্রস্তুতিই এই চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি ও প্রাণহানি কমাতে পারে। এখনই আতঙ্কিত না হয়ে, প্রকৃতির এই পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।





