NEET-UG বিতর্কে মন্ত্রীর পদত্যাগের পরই চরম বিতর্ক! আনন্দে আত্মহারা নেতারা কি তবে মাঝপথে ফেলেই গেলেন আন্দোলনকারীদের?

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক জয়। তবে এই সাফল্যের ঠিক পরেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমর্থকের কাছ থেকেই গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়ল সিজেপি নেতৃত্ব। আন্দোলনের শেষ দিনগুলিতে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ইউটিউবার মেঘনাদ এস সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের “অনাহারে এবং পরিত্যক্ত অবস্থায়” ফেলে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। সিজেপি নেতাদের উদযাপনের একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর সমালোচনা করে মেঘনাদ বলেন, শীর্ষ নেতারা যখন “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে” বলে আনন্দে মেতেছেন, তখন বহু স্বেচ্ছাসেবক এবং বিক্ষোভকারী খাবার, আশ্রয় বা কোনো সাহায্য ছাড়াই দিল্লিতে আটকে ছিলেন। মেঘনাদ দাবি করেন, যে স্বেচ্ছাসেবকরা এক মাস ধরে এই আন্দোলন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, তাদের অনেককেই তিনি এবং আরও কয়েকজন নিজেদের টাকা খরচ করে বাড়ি পাঠিয়েছেন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি ভিডিও ঘিরে, যেখানে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাসকে একটি ইনডোর সেটে কিছু বাচ্চার সঙ্গে নাচতে দেখা যায় এবং ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল “রেজিগনেশন পার্টি” বা পদত্যাগ উদযাপন পার্টি। অন্য কিছু ভিডিওতে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে-কেও দেখা যায়।

এই ভিডিওর নিচে মন্তব্য করে মেঘনাদ লেখেন, “আমি ভোর ৪টের সময় এটা দেখছি। আমি এবং আরও কয়েকজন মিলে গত দু’দিন ধরে নিজেদের টাকায় সিজেপি-র পরিত্যক্ত এবং ক্ষুধার্ত স্বেচ্ছাসেবকদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।” তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরও লেখেন, “আপনারা যখন পার্টি করছেন, তখন ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী এবং শিক্ষার্থী দিল্লিতে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, কারণ আপনারা তাদের কথা ভাবার প্রয়োজন মনে করেননি। সিজেপি-কে অভিনন্দন, আপনারা শেষ পর্যন্ত আরও একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছেন।”

পরবর্তীতে মেঘনাদ আটকে পড়া বিক্ষোভকারীদের বাড়ি ফেরার ট্রেনের তৎকাল টিকিট এবং থাকার জায়গার ব্যবস্থাও করে দেন। সমালোচনার জবাবে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, ওই জমায়েতটি মূলত ১৫০-২০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে ধন্যবাদ জানানোর জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। এটি কোনো পাঁচতারা হোটেল ছিল না, বরং একটি বেসমেন্ট হল ছিল। তিনি দাবি করেন, উদযাপনের দৃশ্য সামনে এলেও নেতারা বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করার জন্য কাজ করে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি মঞ্চে নেই মানেই যে আমি কাজ করছি না, এমনটা নয়।”

শুধু মেঘনাদ নন, সিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আরও অনেকেই সরব হয়েছেন। বিশেষ করে জুনায়েদ নামের এক ব্যক্তির প্রতি তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুনায়েদ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, সিজেপি নেতারা যখন উদযাপন করছিলেন, তখন জুনায়েদকে কেন আটক অবস্থায় ফেলে রাখা হলো? তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ শেষে সিজেপি নেতারা তার সাথে হাত পর্যন্ত মেলাননি। এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত মাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। মিম এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ দ্রুত যন্তর মন্তরে ধর্না এবং মিছিলে রূপ নেয়। দেশজুড়ে নজিরবিহীন প্রতিবাদের পর মন্ত্রী পদত্যাগ করলেও, আন্দোলনের একেবারে শেষ লগ্নে এসে সিজেপি নেতৃত্বের এই আচরণ তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।