ভোটের পরেই দলবদল! এনডিএ-র বৈঠকে ডাক পেতেই কাকলি-সুদীপদের পরিচয় নিয়ে দানা বাঁধল বড় রহস্য

তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই দল ভেঙে বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। ভোটের ফলপ্রকাশের পরেই বেসুরো হয়ে ওঠেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা। দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করার পর সংসদীয় রাজনীতিতে তৈরি হয় নতুন সমীকরণ। কাকলি ও সুদীপ-সহ ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ ঘোষণা করেন যে, তারা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন এবং এনডিএ-র শরিক হিসেবে কাজ করবেন।

তবে এই দলবদলের জল গড়িয়েছে অনেকদূর। এনসিপিআই-কে আলাদা সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানানো হলেও, এখনও পর্যন্ত সেই অনুমোদন মেলেনি। বাদল অধিবেশনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্পিকারের তরফ থেকে কোনো চূড়ান্ত মান্যতা না মেলায় লোকসভার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই নাম রয়েছে কাকলি ও সুদীপদের। এই আইনি জটিলতার মাঝেই আজ এনডিএ সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডাক পান এই বিক্ষুব্ধ নেতারা। স্পিকারের স্বীকৃতি না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তৃণমূল সাংসদ পরিচয়ে তাঁদের এই বৈঠকে যোগ দিতে হয়।

এর আগে বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে সর্বদলীয় বৈঠকে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানো হলে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়। বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতীকী ওয়াকআউট করে প্রশ্ন তোলে যে, স্বীকৃতিহীন একটি দল কীভাবে সরকারি বৈঠকে ডাক পায়। গত সপ্তাহে এনডিএ বৈঠকে আমন্ত্রণ না পেলেও, আজ এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে ডাক পাওয়া নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে।

এদিকে বাংলার রাজনীতিতে অন্য একটি বড় সমীকরণ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কাকলি-সুদীপরা কি শেষ পর্যন্ত সরাসরি বিজেপিতেই মিশে যাবেন? এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে সোমবারের একটি আকস্মিক রাজনৈতিক সাক্ষাতের পর। সোমবার নবান্নে গিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জানা যায়, দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত বৈঠক থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপরই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সুদীপের এই দীর্ঘ বৈঠক রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে এই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের চূড়ান্তভাবে বিজেপিতে নাম লেখানো এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।