টলিউডের দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী। টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে এক বিশেষ বৈঠকে বসেছেন তিনি, যেখানে মূল লক্ষ্য হলো টলিউডের কলাকুশলীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং ইন্ডাস্ট্রিতে ভয়ের সংস্কৃতি দূর করা। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাপিয়া অধিকারী বারবার অভিযোগ তুলেছেন যে, এতদিন ধরে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ অর্থাৎ অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের দাপটেই পিষ্ট ছিল টলিপাড়া। আজ এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এক সদর্থক সমাধানসূত্র খোঁজা হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূল জমানায় টলিউডে অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। টেকনিশিয়ান্সদের অনেকেরই দাবি, শাসকদলের এই দুই নেতার পছন্দের বাইরের লোকেদের ক্রমাগত কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতো। এবার নতুন সরকার আসার পর সেই ভুক্তভোগী শিল্পীরাই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বৈঠকে পাপিয়া অধিকারীর উপস্থিতি এই বার্তাই দিচ্ছে যে, বিজেপি সরকার টলিউডের এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি পরিবর্তনের ব্যাপারে অত্যন্ত সিরিয়াস।
কেবল পাপিয়া অধিকারীই নন, এর আগে বিজেপির অপর বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও টলিপাড়ার এই অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যে একাধিক বৈঠক করেছিলেন। রুদ্রনীল স্পষ্টতই জানিয়েছিলেন, ভারতীয় জনতা পার্টির লক্ষ্য হলো টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির গুণগত বিকাশ, ভয়ভীতিমুক্ত কাজের পরিবেশ তৈরি করা এবং যোগ্য শিল্পীকে সম্মান জানানো। রুদ্রনীলের পূর্ববর্তী বৈঠকে ফেডারেশন ও তার অধীনে থাকা গিল্ডগুলোর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। কেউ জানিয়েছেন কাজ হারানোর যন্ত্রণার কথা, আবার কেউ সরাসরি ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে খুনের হুমকির অভিযোগ এনেছেন। এমনকী পুলিশ ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে ব্যবহার করে শিল্পীদের ভয় দেখানোর মতো ভয়াবহ অভিযোগও উঠে এসেছে।
পাপিয়া অধিকারীর আজকের এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো, তৃণমূল জমানার সেই ‘ভয় ও তোষণের’ রাজনীতি শেষ করে শিল্পীদের জন্য এক অবাধ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা। ফিল্ম, টেলিভিশন, যাত্রা, থিয়েটার থেকে লোকশিল্প—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিল্পীরা যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে শিল্পীদের অভাব-অভিযোগ শুনছেন তিনি। টলিপাড়ার একাংশ মনে করছে, এই বৈঠক কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আগামী দিনে ফেডারেশনের একাধিপত্য ভাঙতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের পথ প্রশস্ত করবে। শিল্পী-কলাকুশলীদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া এবং কাজের সুযোগের সমবণ্টন করাই এখন নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ, আর পাপিয়া অধিকারী সেই চ্যালেঞ্জের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকে।





