তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া বিদ্রোহ এবার এক চূড়ান্ত ও নাটকীয় মোড় নিল। বুধবার সকালে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ৫৯ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছেছেন ঋতব্রত, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। মুর্শিদাবাদের বিধায়কদের বড় অংশের সমর্থন নিয়ে আসা এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কই তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন।
বিধানসভায় প্রবেশের মুখে সন্দীপন সাহা পুনরায় দাবি করেন যে, তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার সিংহভাগই তাঁদের পক্ষে। যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দল ভাঙার জল্পনা এড়িয়ে গিয়ে জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিধানসভায় এসেছেন। কিন্তু অরূপ রায় ও শিউলি সাহার মতো বিধায়কদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি যে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট। বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের ফেসবুকে করা পোস্ট—”তৃণমূল ভেঙে চুরমার, মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা”—এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। যদিও ঋতব্রত এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করে বলেছেন, “আমি আমার এবং সন্দীপন ছাড়া কারও দায়িত্ব নিতে পারব না।”
এই সংঘাতের শিকড় অনেক গভীরে। গত সোমবার তৃণমূল নেতৃত্ব ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এই দুই বিধায়কের অভিযোগ, গত ৬ মে-র বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের কোনো প্রস্তাব বা রেজ়োলিউশন নেওয়া হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, স্রেফ একটি উপস্থিতির খাতায় করা সইকে জালিয়াতি করে সেটাকে রেজ়োলিউশনে পরিণত করেছেন দলের নেতৃত্ব। এই সই জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শাসকদল ও বিদ্রোহীদের মধ্যে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এই দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং তিনি সিআইডি-কে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে স্পিকার বিধানসভায় পৌঁছানোর আগেই বিদ্রোহীদের এই সমাগম বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে এক বড়সড় রদবদল আসন্ন। তৃণমূলের হাতে থাকা ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বিদ্রোহীদের হাতে ৫৯ জনের সমর্থন থাকা মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে এটি এক বড় ধাক্কা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে এই গৃহযুদ্ধ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া এই চিঠির পর বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের শক্তিপরীক্ষা কোন দিকে মোড় নেয়।





