ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে তীব্র জল্পনা চলছিল, তার ওপর কার্যত জল ঢেলে দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। মার্কিন সেনেটের বিদেশ-সম্পর্কিত কমিটির সামনে রুবিয়ো যে দাবি করেছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। রুবিয়োর স্পষ্ট বক্তব্য, মোজতবা খামেনেই কেবল জীবিতই নন, বরং তিনি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে চলতে থাকা উচ্চপর্যায়ের শান্তিচুক্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক।
মঙ্গলবার সেনেটের শুনানিতে রুবিয়ো জানান, মোজতবা সরাসরি আলোচনার টেবিলে উপস্থিত না থাকলেও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নিজের বার্তা আদান-প্রদান করছেন। রুবিয়োর কথায়, “এমন জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, মোজতবা খামেনেই এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। তাঁর প্রভাব প্রতিটি স্তরে স্পষ্ট।” এই দাবিটি এমন এক সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এক ধরনের শীতল কূটনৈতিক লড়াই চলছে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানও অত্যন্ত কঠোর। রুবিয়ো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে না ওয়াশিংটন। ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ উন্মুক্তও করে দেয়, তবুও নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটাই শর্ত, আর তা হলো ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী বিলুপ্তি। এর বাইরে কোনো আপস প্রস্তাবে রাজি নয় আমেরিকা।
রুবিয়োর এই বক্তব্য থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—ইরান এবার তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু সংবেদনশীল গোপনীয়তা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে, যা অতীতে অকল্পনীয় ছিল। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপটি কি স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথ প্রশস্ত করবে? উত্তরটি এখনই নিশ্চিত নয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই হাই-ভোল্টেজ কূটনৈতিক তৎপরতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে যদিও দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও পরিস্থিতির যে কোনো মুহূর্তে মোড় নেওয়ার আশঙ্কা কাটছে না। পর্দার আড়ালে চলা এই আলোচনা কতটা সফল হয়, এবং মোজতবা খামেনেইয়ের ভূমিকা এতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন সারা বিশ্ব।





