রাজ্যের রাজনীতিতে ফের শিরোনামে সেই ‘হেলমেট’। কিছুদিন আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জনরোষ ও ইটের আঘাত থেকে বাঁচাতে হেলমেট পরানোর ঘটনা রাজ্যজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পূর্ব বর্ধমানে ফের একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। এবার কাঠগড়ায় ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। তাঁকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে নিয়ে আসার ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে পুলিশি নিরাপত্তায় বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি, মারধর এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেইসব মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে আদালতের চৌকাঠে পৌঁছানোর আগেই গাড়ির ভেতর যেভাবে তাঁকে হেলমেট পরানো হয়, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের নিরাপত্তার বলয়ে থাকা সত্ত্বেও কেন একজন প্রাক্তন বিধায়ককে হেলমেট পরানোর প্রয়োজন পড়ল, তা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পুলিশি তৎপরতায় দ্রুত তাঁকে হেলমেট পরা অবস্থাতেই আদালতের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাক্তন এই তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই বর্ধমানের রাজনৈতিক সমীকরণ যেন নতুন করে মোড় নিয়েছে। স্থানীয় কাঞ্চননগর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। খোকন দাসের সমর্থকদের একাংশ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করলেও, এলাকার একটি বড় অংশ তাঁর গ্রেফতারিতে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। রবিবার খোকন দাসের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই কাঞ্চননগর এলাকায় বিজেপির পতাকা নিয়ে গেরুয়া আবির মেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের আনন্দ উদযাপন করতে দেখা গিয়েছে। এমনকী, রাস্তায় ডিজে বাজিয়ে ‘খোকন চোর’ শীর্ষক গান চালিয়ে নাচানাচিও করেন একাংশ বাসিন্দা, যেখানে মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রাক্তন বিধায়কের এই গ্রেফতারি এবং তাঁকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে নিয়ে আসা—পুরো বিষয়টিকে শাসকদলের জন্য একটি বড় অস্বস্তির কারণ হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে যখন তোলাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে একজন প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ঠিক সেই সময় জনরোষের ভয়ে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে রক্ষা করার কৌশল পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। আদালতের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে এই ‘হেলমেট-সুরক্ষা’ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই এখন বর্ধমানের রাজনৈতিক আঙিনায় তীব্র তরজা চলছে। এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের মনে যেমন কৌতূহল বাড়িয়েছে, তেমনই বিরোধী শিবির একে শাসকদলের পরাজয়ের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে।





