কাজের ব্যস্ততার মাঝেই মর্মান্তিক পরিণতি! খাদ্যভবনে সিঁড়ির রেলিং থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুমিছিলে রক্ষা পেলেন কর্মী

রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র খাদ্যভবনে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সোমবার সকালে দপ্তরে কর্মরত অবস্থায় চারতলার সিঁড়ির রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হলেন কৃষি ও বিপণন বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকে গোটা খাদ্যভবন চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আহত আধিকারিককে উদ্ধার করে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
খাদ্যভবন সূত্রের খবর, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অন্যান্য দিনের মতোই দপ্তরের কাজকর্ম শুরু হয়েছিল। হঠাৎই ভবনের ভেতর থেকে একটি বিকট শব্দ ভেসে আসে। প্রাথমিকভাবে কর্মীরা ভেবেছিলেন হয়তো কোনো ভারী আসবাবপত্র বা নির্মাণসামগ্রী নিচে পড়ে গিয়েছে। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়াশা কাটে যখন সিঁড়ির পাশের অংশে আসবাবপত্রের ওপর ওই আধিকারিককে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত কর্মীরা হতভম্ব হয়ে যান। ছুটে এসে দেখেন ওই আধিকারিক কোনোভাবেই নড়াচড়া করতে পারছেন না। দ্রুত খবর দেওয়া হয় নিরাপত্তা রক্ষী ও কর্তৃপক্ষকে। সহকর্মীদের ত্বরিত তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, চারতলার সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়েই তিনি সিঁড়ির ফাঁক দিয়ে নিচে পড়ে যান। যদিও তিনি অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়েছেন, নাকি সিঁড়ির রেলিং বা পরিকাঠামোগত কোনো ত্রুটি ছিল, তা তদন্ত সাপেক্ষ।
এই ঘটনার পরই খাদ্যভবনের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ব্যস্ত প্রশাসনিক কেন্দ্রে যাতায়াত করেন। অথচ সিঁড়ির রেলিং বা করিডরের উচ্চতা এবং সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে নিয়মিত কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না। এই দুর্ঘটনা যেন এক গভীর সতর্কবার্তা, এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই আধিকারিকের শরীরের একাধিক অংশে গুরুতর চোট লেগেছে। হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। প্রয়োজনীয় সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সহকর্মী ও পরিচিতদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়, অনেকেই হাসপাতালে ভিড় করেন।
প্রশাসনিক মহলে এই দুর্ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সোমবারের এই ঘটনা খাদ্যভবনের সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল। এখন কেবল আহত আধিকারিকের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষাতেই রয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা।