পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের ধর্ম ও রাজনীতির সংমিশ্রণকে কেন্দ্র করে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রেড রোডে আয়োজিত ঈদের নমাজ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রগতি ময়দান থানায় একটি চাঞ্চল্যকর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহী খান। তিনি সরাসরি নিশানা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল বিধায়ক তথা খিলাফত কমিটির সভাপতি জাভেদ আহমেদ খান এবং কমিটির অন্য এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে।
বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহী খান, যিনি সংখ্যালঘু মোর্চায় সক্রিয় এবং নারী অধিকারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করে থাকেন, তাঁর অভিযোগে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। নাজিয়ার দাবি, রেড রোডে যেভাবে ঈদের নমাজ আয়োজিত হয়, তা কোরানের নিয়ম ও ইসলামের মূল নীতির বিরোধী। তাঁর বক্তব্য, “পুরুষদের নমাজের ভিড়ে কোনো মহিলার উপস্থিতি কোরানের নিয়মবিরুদ্ধ। এই আয়োজন ধর্মীয় রীতির তোয়াক্কা না করে একপেশেভাবে করা হয়েছে।”
নাজিয়ার অভিযোগে রাস্তা আটকে নমাজের আয়োজনের ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকারে হস্তক্ষেপের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, রেড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক বারবার বড় আকারের জমায়েতের জন্য ব্যবহার করায় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা চরম বিঘ্নিত হয়। এতে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে নাজিয়া আরও জানিয়েছেন, টিপু সুলতান মসজিদে নমাজ পড়তে গিয়ে তিনি অতীতে বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং তখন তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের তোষণের রাজনীতির চরম পরিণতি। এক বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “রাস্তা ধর্মের জন্য নয়, বরং সকল নাগরিকের চলাচলের জন্য। যদি কোরানের নিয়ম মানার কথা বলা হয়, তবে মহিলাদেরও সেখানে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিরপেক্ষ থাকার পরিবর্তে একপেশে অবস্থান নিয়ে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক ভারসাম্য নষ্ট করছেন।”
অন্যদিকে, জাভেদ আহমেদ খানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাজিয়া। খিলাফত কমিটির আয়োজনে রাজ্য প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগে কোরানের নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি কিছুটা বিতর্কিত, কারণ সাধারণত ধর্মীয় রীতিনীতির বিষয়ে আদালত সচরাচর হস্তক্ষেপ করে না। তবে পাবলিক রাস্তার অপব্যবহার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। সব মিলিয়ে, রেড রোডের নমাজ নিয়ে এই আইনি লড়াই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।





