দেশের বিচার ব্যবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মামলার রায় সংরক্ষিত রেখে দেওয়ার প্রবণতায় এবার ইতি টানল সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে শীর্ষ আদালত একগুচ্ছ নজিরবিহীন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। বিচারপতিদের ইচ্ছেমতো রায় আটকে রাখার দিন শেষ করে এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো।
৩ মাসের ডেডলাইন ও বেঞ্চ পরিবর্তনের নিয়ম:
সুপ্রিম কোর্টের নয়া নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে হবে। যদি কোনও বিশেষ পরিস্থিতিতে তিন মাস অতিক্রান্ত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আদালতের রেজিস্টার জেনারেলকে বিষয়টি অতি অবশ্যই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরে আনতে হবে। প্রধান বিচারপতি বড়জোর অতিরিক্ত দুই সপ্তাহ বা ১৪ দিনের সময় দিতে পারেন। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যেও রায় দিতে ব্যর্থ হলে, সেই মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য বেঞ্চে স্থানান্তরিত করা হবে এবং নতুন করে বিচার শুরু হবে।
রায় আপলোডে স্বচ্ছতা:
অনেক ক্ষেত্রে এজলাসে মৌখিক রায় ঘোষণা হলেও বিস্তারিত কপি পেতে মামলাকারীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, রায়ের মূল অংশ ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ সম্পূর্ণ কপি আদালতের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। ৩০ দিন পেরিয়ে গেলে মামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট মামলা স্থানান্তরের আবেদন করার আইনি অধিকার পাবেন। প্রতিটি হাইকোর্টের ওয়েবসাইটেও এখন থেকে রায়ের সংরক্ষিত তারিখ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
জামিনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী স্বস্তি:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কথা মাথায় রেখে জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলাগুলিতে শীর্ষ আদালত সবথেকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জামিনের মামলার শুনানি শেষ হওয়ার ঠিক পরের দিনই রায় ঘোষণা করতে হবে। সেই আদেশ ইমেল বা দ্রুততম মাধ্যমে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়ে বন্দির মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিম্ন আদালতগুলিকে এই সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট নিয়মিত হাইকোর্টে পাঠাতে হবে।
কেন এই কঠোর অবস্থান?
ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের একটি মামলায় সওয়াল-জবাব শেষ হওয়ার পরেও দুই থেকে তিন বছর রায় সংরক্ষিত ছিল। এই চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসার পরেই সুপ্রিম কোর্ট দেশের সমস্ত হাইকোর্টের কাছ থেকে স্থিতি প্রতিবেদন তলব করে। সেই সব রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই বিচার ব্যবস্থার সংস্কারে এই অলঙ্ঘনীয় ডেডলাইন তৈরি করা হয়েছে। আমজনতার আইনি অধিকার রক্ষা এবং বিচার ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনতেই সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ এক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।





