রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে দেব! নতুন সরকারের কাছে শিল্পীসত্তার ‘মুক্তির’ দাবি অভিনেতার

বাংলা রাজনীতির আঙিনায় অভিনেতাদের পদার্পণ নতুন নয়, কিন্তু দেবের যাত্রা সবসময়ই প্রথাগত রাজনীতির থেকে স্বতন্ত্র। তারকা এবং রাজনীতিবিদ—এই দুই সত্তার মাঝে এক দুর্লভ ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি নিজের জন্য যে জায়গাটি তৈরি করেছেন, তা বাংলার বিনোদন জগতে বিরল। শুক্রবার রাতে ‘ফেরা’ ছবির প্রিমিয়ারে তাঁর করা মন্তব্য সেই ভারসাম্য এবং দূরদর্শিতারই পরিচয় দিল।

নতুন সরকারের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে দেব যে ধৈর্য ও পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন, তা একজন দায়িত্বশীল সাংসদের মতোই। মন্ত্রিসভা গঠন ও নীতি নির্ধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে ফলাফল খোঁজা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করেন তিনি। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের আসল ওজন লুকিয়ে ছিল পরের কথাগুলোতে। দেব স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন সরকারের আমলে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে আরও ভালো ও স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর এই বিশ্বাসের নেপথ্যে রয়েছে গত কয়েক বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে কাজ করতে গিয়ে তিনি যে ধরনের অঘোষিত বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় তা ঘটবে না।

এই একটি বাক্য যেন টলিপাড়ার গত কয়েক বছরের জমাট বাঁধা ক্ষোভের প্রতিচ্ছবি। গত কয়েক বছরে টলিপাড়ার অন্দরে ‘নিষিদ্ধ সংস্কৃতি’ বা ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে চাপা গুঞ্জন ছিল প্রবল। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পেশাদারিত্বকে বিচার করার যে প্রবণতা ইন্ডাস্ট্রিতে জাঁকিয়ে বসেছিল, দেবের এই মন্তব্য তার বিরুদ্ধেই এক নীরব প্রতিবাদ। দেব এমন একজন শিল্পী, যিনি রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে কাজ করাকে পেশাদারিত্বের অংশ মনে করেছেন। বহু সময় এর জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেও, নিজের অবস্থান থেকে তিনি সরেননি।

ঘটাল মাস্টার প্ল্যান থেকে শুরু করে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই দেব সর্বদা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁর রাজনীতি সংঘাতের নয়, বরং সংলাপের। তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় মানেই প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা নয়। ক্ষমতার পালাবদলের পরেও প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস না রেখে তিনি পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

১২ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, তিনি নিজের তারকাখ্যাতিকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানাননি, আবার রাজনৈতিক সত্তাকেও নিজের শিল্পীসত্তার ওপর চাপিয়ে দেননি। শিল্পীদের জন্য ভয়মুক্ত ও সুস্থ কাজের পরিবেশ—এটাই এখন তাঁর প্রধান দাবি। পরিবর্তনের আবহে দাঁড়িয়ে দেবের এই বক্তব্য কেবল টলিপাড়ার জন্য নয়, বরং বাংলার রাজনীতির জন্য এক সুস্থ সংকেত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy