বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে বড়সড় নক্ষত্রপতন। বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্কের একটি বহুতল আবাসন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হলো বিশিষ্ট পরিচালক অনীক দত্তের। ৬৬ বছর বয়সী এই পরিচালকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য এবং রহস্য। পুলিশি তদন্তে ইতিমধ্যে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কী জানা যাচ্ছে প্রাথমিক তদন্তে?
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ অনীক দত্ত হিন্দুস্তান পার্কের ওই আবাসনে যান। এর ঠিক ১৫ মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কলকাতা পুলিশের পদস্থ কর্তারা। তদন্তের স্বার্থে পুরো বিষয়টি হোমিসাইড শাখার হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মৃত্যুর নেপথ্যে রহস্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য:
সুইসাইড নোট: আবাসনের ছাদ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা এখন ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
প্রেসক্রিপশন: পরিচালকের পকেট থেকে ডিপ্রেশনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরেই অবসাদজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট: সূত্রের খবর, পরিচালক অনীক দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী কিছুদিন আগে আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন। বুধবার স্ত্রী দেখা না করায় বা সময় না দেওয়ায় তিনি ছাদে চলে গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের অভিমুখ: পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের না করা হলেও, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলা সিনেমার অপূরণীয় ক্ষতি:
‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির হাত ধরে ২০১১-১২ সালে বাংলা সিনেমায় এক নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন অনীক দত্ত। রাজনৈতিক শ্লেষ, সামাজিক ব্যঙ্গ এবং অনবদ্য গল্পের বুননে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ তৈরির নেপথ্য কাহিনী নিয়ে তাঁর সাড়া জাগানো ছবি ‘অপরাজিত’— বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর অবদান অমলিন হয়ে থাকবে।
বর্তমানে তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে। শ্রীলেখা মিত্র, রুদ্রনীল ঘোষসহ চলচ্চিত্র জগতের বহু বিশিষ্টজন হাসপাতালে পৌঁছেছেন শোকবার্তা জানাতে।





