কুর্সি বদলের জল্পনায় ইতি! ডিকে-সিদ্দারামাইয়া মেগা বৈঠকের পর যা জানাল কংগ্রেস

কর্ণাটকের রাজনৈতিক মহলকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র জল্পনার অবসান ঘটল। দিল্লির ‘দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মেগা বৈঠকের পর মুখ খুলল কংগ্রেস হাইকমান্ড। দুই নেতার মধ্যে সংঘাত এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের যাবতীয় গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের বার্তা—কর্ণাটকে সরকার স্থিতিশীল এবং দুই নেতার মধ্যে কোনো বিভেদ নেই।

দিল্লিতে কী বার্তা দিলেন হাইকমান্ড? দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে দুই নেতার এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বৈঠকের পর কংগ্রেসের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং জনকল্যাণমূলক কাজে মনোনিবেশ করছে। সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমারের সম্পর্কের ফাটল ধরার যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব।

কেন তৈরি হয়েছিল জল্পনা? গত কয়েকদিন ধরেই কর্ণাটকের অন্দরে ‘কুর্সি বদল’ বা মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তন নিয়ে নানা জল্পনা শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে দুই নেতার অনুগামীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় ছিল। কিন্তু এদিন দিল্লি বৈঠকের পর ছবিটা অনেকটাই পরিষ্কার। কংগ্রেস নেতৃত্ব চাইছে, ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে কর্ণাটকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে কোনো রকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সুযোগ না দিতে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব: দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেসের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি কর্ণাটক। তাই লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী এই সময়ে রাজ্য সরকারের স্থায়িত্ব বজায় রাখা কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। দুই নেতার এই বৈঠক ও দলীয় হাইকম্যান্ডের এই বার্তা বিরোধী দলগুলোকে নিস্তেজ করতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

দিল্লি বৈঠক থেকে সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারকে একসঙ্গে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই বৈঠকের পর কর্ণাটকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শান্তি বজায় থাকে কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy