তৃণমূলের অন্দরে কি ভাঙন? শিলিগুড়িতে নিশীথ প্রামাণিকের বৈঠকে হাজির শাসকদলের বিধায়করা

শিলিগুড়ির রাজনৈতিক আঙিনায় মঙ্গলবার এক অভাবনীয় দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের ডাকা একটি প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক বৈঠকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ১১ জন বিধায়কের উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলের অন্দরের নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে বিধায়কদের এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

বৈঠকের প্রেক্ষাপট: উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির নাম করে শিলিগুড়িতে এই বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সেখানে তৃণমূলের ১১ জন বিধায়কের উপস্থিত থাকাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণত শাসকদলের বিধায়করা বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু এই ১১ জন বিধায়কের উপস্থিতি শাসকদলের নির্দেশিকাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানানোর শামিল বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা: সূত্রের খবর, এই ১১ জন বিধায়ক মূলত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন। বৈঠকে যোগ দিয়ে তাঁরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের দাবিদাওয়া নিশীথ প্রামাণিকের সামনে তুলে ধরেন। যদিও বিধায়কদের দাবি, “এটি সম্পূর্ণ উন্নয়নের স্বার্থে বৈঠক, এর মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই।” তবে বিরোধী শিবিরের নেতারা এই ঘটনাকে ‘তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

দলের অন্দরে অস্বস্তি: তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, দলের অন্দরে যে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে তা স্পষ্ট। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এবং সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলের আবহে বিধায়কদের এই ধরণের ‘বেসুরো’ ভূমিকা দলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন তৃণমূলের অন্দরে কাটাছেঁড়া চলছে।

শিলিগুড়ির এই ঘটনা কি আগামীর কোনো বড় রাজনৈতিক ভাঙনের পূর্বাভাস, নাকি নিছক উন্নয়নমূলক আলোচনার ক্ষেত্র—সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy