তৃণমূলের সাথে জোট? সিপিএমের অবস্থান স্পষ্ট করলেন এম এ বেবি, কি বললেন তিনি?

২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজ্যের সমস্ত বিরোধী শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার জন্য মরিয়া আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম-অতি বাম দলগুলিকেও এই জোটে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও সিপিএম যে একে অপরের ঘোর বিরোধী, সেই সত্য ফের একবার প্রকাশ্যে এল সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির মন্তব্যে।

তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়ার যাবতীয় জল্পনা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন এম এ বেবি। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের গণতান্ত্রিক দল বলে দাবি করে, কিন্তু তাদের আসল চেহারাটা মানুষ জানে। নির্বাচনে আমাদের এক কর্মীকে তৃণমূল কংগ্রেস নির্মমভাবে খুন করেছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের দলীয় কর্মীদের ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধার প্রশ্ন ওঠাই অবান্তর।”

তৃণমূল নেত্রীর এই রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, যে দল প্রতিনিয়ত বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে, তাদের সঙ্গে কোনওভাবেই কাজ করা সম্ভব নয়। তিনি এই বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করে জানান, এই ধরনের প্রশ্ন করাই উচিত নয়।

নির্বাচনের ফলাফল এবং তৃণমূলের তোলা কারচুপির অভিযোগ নিয়েও এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল নেতৃত্বকে তুলোধনা করেছেন এম এ বেবি। ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল বারবার দাবি করে আসছে যে, এই ফলাফল মানুষের রায় নয় বরং বিজেপি পরিকল্পিতভাবে রিগিং করে ক্ষমতা দখল করেছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলকে বিঁধে তিনি বলেন, “সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের আমলে বামেরা রিগিং করত বলে যে অভিযোগ তৃণমূল তুলত, তা আজও তাদের গলার কাঁটা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে তো অগণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে। তাদের গুণ্ডাবাহিনী যেভাবে আমাদের কার্যালয় দখল করেছে, তা রাজ্যবাসী ভুলে যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল এখন রিগিং নিয়ে অভিযোগ তুলছে কারণ তারা সম্ভবত বুঝতে পেরেছে যে, এতদিন ধরে তারা যে পদ্ধতির আশ্রয় নিয়ে ভোট লুট করত, বিজেপি সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে আজ তাদের ক্ষমতাচ্যুত করেছে। অর্থাৎ, বিজেপির কৌশল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনেকটা ‘বুমেরাং’ হয়ে ফিরে এসেছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এম এ বেবির এই স্পষ্ট বক্তব্যে এটি প্রমাণিত যে, তৃণমূলের করুণ পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কৌশল অবলম্বন করতে চাইছেন, তাতে বামেদের থেকে সমর্থন পাওয়ার সুযোগ কার্যত শূন্য। রাজ্যে বাম ও তৃণমূলের পারস্পরিক তিক্ততা যে চরমে পৌঁছেছে, তা এম এ বেবির এই কড়া সমালোচনায় ফের একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। ফলে ২০২৬ পরবর্তী রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের এককভাবে লড়ার পরিস্থিতিই আরও প্রকট হতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy