মহারাষ্ট্রের মীরা রোডের পুনম ক্লাস্টার সোসাইটিতে বকরি ঈদকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। স্থানীয় পুরসভা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে কোরবানির জন্য তৈরি একটি অস্থায়ী ছাগলের খোঁয়াড় ভেঙে ফেলার পরই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু করে হাতাহাতি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুরো সোসাইটি জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন সোসাইটির একাংশে মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য বকরি ঈদের কোরবানির জন্য ছাগল রাখার উদ্দেশ্যে একটি অস্থায়ী শেড নির্মাণ করেন। অভিযোগ, এই শেড থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। মারাঠা পরিবারসহ অন্যান্য হিন্দু বাসিন্দারা প্রথম থেকেই এই ধরনের আয়োজনের ঘোর বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, আবাসিক এলাকায় গবাদি পশু রাখা ও দুর্গন্ধে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন স্থানীয় পুরসভায় অভিযোগ জানানোর পর কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে ওই শেডটি ভেঙে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, পুরসভার অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতের অন্ধকারে ওই মুসলিম যুবকরা আবারও ভাঙা শেডটি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা চালান। সোসাইটির প্রায় ৬০ শতাংশ হিন্দু বাসিন্দা একত্রিত হয়ে এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিবাদের মধ্যেই মুসলিম যুবকদের একাংশ হিন্দু পক্ষের এক কার্যকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোসাইটিতে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হিন্দু বাসিন্দারা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সোসাইটির নিয়ম ভেঙে যদি ছাগল আনা হয়, তাহলে আমরাও প্রতিবাদস্বরূপ এলাকায় শূকর নিয়ে আসব।”
এই ধরনের চরমপন্থি প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোসাইটির অনেক আবাসিক মনে করছেন, ধর্মীয় আবেগের নামে আবাসিক এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করা উচিত নয়। অন্যদিকে, মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, বকরি ঈদ তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব এবং কোরবানির জন্য ছাগল রাখা তাঁদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তাঁরা জানিয়েছেন, শেডটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ছিল এবং কোনো স্থায়ী ক্ষতি করার উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। পুরসভার হঠকারী সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী সংঘাতে তাঁরাও ক্ষুব্ধ।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোসাইটি চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন এখন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। তবে দুই সম্প্রদায়ের এই অনড় অবস্থানে সামাজিক সম্প্রীতি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।





