সিবিএসই-র বড় ভুল! নিজের উত্তরপত্র দেখে চমকে উঠলেন ছাত্র, ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসল বোর্ড

সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক ছাত্রের ঘটনা। পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষার নম্বর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বেদান্ত যখন পুনঃমূল্যায়নের (Re-evaluation) আবেদন করে, তখন তার হাতে আসা উত্তরপত্র দেখে সে স্তব্ধ হয়ে যায়। ছাত্রটির দাবি, বোর্ডের পাঠানো সেই উত্তরপত্রের হাতের লেখা তার নয়। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিষয়টি।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ফলাফল ঘোষণার পর, যখন বেদান্ত তার পদার্থবিজ্ঞান, গণিত এবং কম্পিউটার সায়েন্সের নম্বর নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে। এরপর সে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খাতা দেখার আবেদন জানায়। পদার্থবিজ্ঞানের উত্তরপত্রের ফটোকপি হাতে পাওয়ার পর বেদান্ত স্পষ্ট বুঝতে পারে যে, খাতাটি তার লেখা নয়। এই অসংগতি নিয়ে বেদান্ত এবং তার ভাই সিদ্ধান্ত শ্রীবাস্তব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রামে সরব হন। মুহূর্তের মধ্যে সেই পোস্টটি লক্ষ লক্ষ মানুষের নজরে আসে এবং সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক ভাইরাল হওয়ার পরেই সিবিএসই কর্তৃপক্ষ দ্রুত নড়েচড়ে বসে। বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়। বোর্ডের প্রতিনিধিরা ছাত্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত ইমেইলের মাধ্যমে তাকে পদার্থবিজ্ঞানের প্রকৃত উত্তরপত্রটি পাঠিয়ে দেন। পাশাপাশি সিবিএসই আশ্বাস দিয়েছে যে, নতুন করে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ছাত্রটির প্রাপ্ত নম্বরে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। বোর্ডের এক মুখপাত্র জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য, তাই একটি বিশেষ দল পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে, বেদান্তের ভাই সিদ্ধান্ত শ্রীবাস্তব এই পুরো অভিজ্ঞতায় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। তিনি জানান, শুরুতে বেদান্ত ভেবেছিল হয়তো সে কম নম্বর পেয়েছে, কিন্তু অন্যের হাতের লেখা দেখার পর পুরো বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়। সিদ্ধান্তের কথায়, “আমরা যখন বিষয়টি টুইটারে তুলে ধরি, তখন কিছু মানুষ আমাদের অকারণে ট্রোল করা শুরু করে। এমনকি আমার প্রোফাইল লোকেশন দেখে আমাকে পাকিস্তানের সঙ্গে জড়িয়ে নানা কটু মন্তব্য করা হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর রাহুল গান্ধীও বিষয়টি সামনে আনেন এবং ছাত্রটির পাশে দাঁড়ান। পাশাপাশি সিবিএসই-র ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (OSM) পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। সিদ্ধান্ত শ্রীবাস্তবের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের ত্রুটি এড়িয়ে সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়। সরকার ও বোর্ডের কাছে তাদের আবেদন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো ছাত্রকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়, তার জন্য যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy