ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে এক হৃদয়বিদারক এবং নৃশংস খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক যে এত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারছেন না স্থানীয়রা। নিজের স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে স্ত্রী পুনম লিমগাকে। ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে প্রেমিকের সাথে মিলিত হয়ে এক ঠান্ডা মাথার খুনের ছক।
ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডের সিমদেগা জেলায়। নিহত বিনোদ লিমগা একজন সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সংসার চালাতেন। তার স্ত্রী পুনম ফেসবুকের মাধ্যমে সুগাদ টোপাডো নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচিত হন। দীর্ঘদিনের কথোপকথন ক্রমে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে পুনম তার প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলেও, পরবর্তী সময়ে সে ফিরে আসে। পরিবারের ধারণা ছিল সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে, কিন্তু পুনমের মনে ছিল অন্য ষড়যন্ত্র।
পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, বাড়ি ফিরে আসার পর পুনম তার প্রেমিক সুগাদ টোপাডোকে নিয়ে স্বামীকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। সুগাদ তার বন্ধু ইন্দাল মাঞ্জি এবং অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে বিলাসপুরের সিরগিট্টি এলাকায় আস্তানা গড়ে। তারা বিনোদকে ফোনে ফাঁদে ফেলে। সুগাদ তাকে প্রস্তাব দেয়, বিলাসপুরে এলে তার স্ত্রীকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং বিনিময়ে তাকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। টাকার অভাব থাকায় এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার আশায় বিনোদ ১৯ মে বিলাসপুরে গিয়ে পৌঁছায়।
সেখানে পৌঁছানোর পরই আসল ছক সামনে আসে। অভিযুক্তরা বিনোদকে রেললাইনের পাশের এক নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে ওড়না দিয়ে তার শ্বাসরোধ করা হয়, এরপর নৃশংসভাবে ছুরি দিয়ে গলা কেটে নিশ্চিত করা হয় মৃত্যু। অপরাধ সংঘটনের পর সমস্ত অভিযুক্ত মৃতদেহটি রেললাইনের ধারের ঝোপঝাড় ও কাদার মধ্যে ফেলে দিয়ে ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়।
এদিকে পুনম একা গ্রামে ফিরে আসতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা সত্ত্বেও সে মিথ্যা কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। বিনোদ ফিরে না আসায় বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ মহিলার কল ডিটেইলস যাচাই করে এবং রহস্যের কিনারা হয়। জেরার মুখে পুনম ভেঙে পড়ে এবং প্রেমিক সুগাদ টোপাডোর সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে। বর্তমানে অভিযুক্ত স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সুগাদ টোপাডো, ইন্দাল মাঞ্জি এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একটি বিশেষ দল ঝাড়খণ্ডে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।





