রাজ্য প্রশাসনে নতুন যুগের সূচনা করতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের আমলা ও সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে কাজের পরিবেশ আরও মসৃণ এবং ভীতিমুক্ত করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন তিনি। আজ সন্ধ্যায় আলিপুরের সৌজন্য সভাগৃহে আয়োজন করা হয়েছে এক বিশেষ নৈশভোজের। যেখানে আমন্ত্রিত রাজ্যের উচ্চপদস্থ সরকারি আমলা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরাও।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য—প্রশাসনিক সমন্বয় সাধন। অতীতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্পই বাংলায় থমকে ছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতার ভিত্তিতেই কাজ হবে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো দ্রুত রাজ্যে কার্যকর করার লক্ষ্যে আমলাদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসনিক মহলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, তৃণমূল জমানায় আমলাদের একটি বড় অংশ মানসিক চাপে কাজ করতে বাধ্য হতেন। সরকারি বৈঠক বা প্রশাসনিক সভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র ভর্ৎসনা প্রায়শই শিরোনামে আসত। এমনকী, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সরাসরি তিরস্কারের মুখে পড়তে হতো শীর্ষ আধিকারিকদের। এই ভয়ের আবহ তৈরি হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতো বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।
সেই অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে আমলাদের মুক্তি দিতে বদ্ধপরিকর শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সচিবালয়ের আধিকারিকদের বার্তা দিয়েছেন—কোনো ভয় নয়, নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিন। নবান্নে বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী একই সুর বজায় রেখেছেন। এমনকী পুলিশ আধিকারিকদেরও তিনি অভয় দিয়েছেন। সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করতে গিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকারি সভায় কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য বা আধিকারিকদের নাম ধরে প্রকাশ্যে ডাকার রেওয়াজ তিনি পুরোপুরি বন্ধ করবেন।
আজকের এই নৈশভোজ কোনো সাধারণ জমায়েত নয়, বরং এটি প্রশাসনিক সংস্কারের এক নতুন পথ। আমলাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজকে ত্বরান্বিত করাই এই ডিনারের মূল লক্ষ্য। আধিকারিকরা যদি ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন, তবেই রাজ্যের সাধারণ মানুষ দ্রুত সরকারি পরিষেবার সুফল পাবেন—এই মন্ত্রেই বিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী। আজকের সন্ধ্যায় আমলাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী বার্তা দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্কৃতিতে এই নতুন উদ্যোগ রাজ্যের ভবিষ্যতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।





