রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের আবহে বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কার পর, এবার পুরসভাগুলোর দখল বজায় রাখতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে এবং আসন্ন পুরভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ, সোমবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকলেও পুরসভাগুলোতে ঘাসফুল শিবিরের আধিপত্য বজায় রাখাই এখন নেত্রীর মূল লক্ষ্য।
এদিনের বৈঠকে উত্তর ২৪ পরগনার দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরানগর পুরসভা এবং বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের তলব করা হয়েছে। কামারহাটির বিধায়ক তথা দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মদন মিত্রের উদ্যোগে সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরের খবর, সম্প্রতি গেরুয়া ঝড়ে রাজ্যের বেশ কয়েকটি পুরসভায় কাউন্সিলরদের দলবদল ও বোর্ড ভাঙার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নেত্রী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
গত সপ্তাহের কলকাতার কাউন্সিলরদের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ‘মাটি আঁকড়ে’ থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এদিনের বৈঠকেও তিনি সেই একই সুর ধরে রাখতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পুর আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি কাউন্সিলরদের বোঝাবেন যে, নির্বাচিত বোর্ড চাইলেই কেউ ভেঙে দিতে পারে না, তার জন্য সুনির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে একই সঙ্গে জনসংযোগ বৃদ্ধিতেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। নেত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ক্ষমতার পালাবদল হলেও পুর পরিষেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।
এদিকে, পুরসভার এই মেগা বৈঠকের ঠিক আগের রাতেই দলীয় সংগঠনে বড় রদবদল ঘটিয়েছে তৃণমূল। দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল যুব সংগঠনের নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে শ্রীদীপ দাসকে। এতদিন এই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা শ্রীদীপের ওপর আস্থা রেখে তাঁকে জেলা সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যাটন তুলে দিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও পুরসভার ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।





