থ্রেট কালচারের হোতা চিকিৎসক অভীক দে, প্রশ্নের মুখে ‘সার্ভিস কোটা’য় ভর্তি!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নৃশংস ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা চিকিৎসক ডাঃ অভীক দে-র বিরুদ্ধে নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের তরফে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডাঃ অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এমনকি, তিনি কীভাবে ‘সার্ভিস কোটা’য় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট (PG) কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন, সেই বিষয়টিও আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের তালিকা: বর্তমানে কলকাতার আইপিজিএমইঅ্যান্ডআর (IPGME&R)-এ জেনারেল সার্জারির ইন-সার্ভিস পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি হিসেবে কর্মরত ডাঃ অভীক দে-র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ‘থ্রেট কালচার’ তৈরির অভিযোগ রয়েছে। জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, তিনি চিকিৎসকদের বদলি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং নিয়ম ভেঙে টানা দু’বছর ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, রোগীর পরিষেবা নিয়ে গাফিলতি এবং প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সাসপেনশন ও তদন্তের ভিত্তি: ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যখন আরজি কর কাণ্ডের পরবর্তী অস্থিরতায় তাঁর নাম বিতর্কের শীর্ষে উঠে আসে। সেই সময় থেকেই তিনি সাসপেনশনে রয়েছেন। রাজ্যের সার্ভিসেস (CCA) Rules, 1971 অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যপাল আর এন রবি (RN Ravi) এই বিভাগীয় তদন্ত শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছেন বলেও স্বাস্থ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন: সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তির পদ্ধতি। সার্ভিস কোটায় তিনি কীভাবে এই সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজ্য প্রশাসন। ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

আরজি কর-কাণ্ডের আবহে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক দুর্বলতাগুলো ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। ডাঃ অভীক দে-র বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ চিকিৎসা মহলে এক বড় বার্তা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy