পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। ডায়মন্ড হারবারের পার্শ্ববর্তী এই কেন্দ্রে গণনার শুরুতেই এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। প্রথম রাউন্ডের ভোট গণনা শেষ হতেই দেখা গেল, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে বহু পিছনে ফেলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী গতিতে এগিয়ে চলেছে বিজেপি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ভোট গণনা আজ ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একাধিক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ২১ রাউন্ড ধরে এই গণনা প্রক্রিয়া চলবে, যেখানে ৬২ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি টেবিলে নিয়ম মেনে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট যাচাইয়ের কাজ চলছে।
ফলতা কেন্দ্রটি এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকায় বিজেপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কেন্দ্রের ফলাফল কেবল একটি আসনের জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণের বড় ইঙ্গিত। এবারের নির্বাচনের আবহে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। ভোটের লড়াই থেকে তাঁর নাটকীয় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বড় বিতর্ক উসকে দিয়েছিল। তাঁর এই আচমকা অনুপস্থিতি এবং দলীয় অস্বস্তির মুখে পড়ে তৃণমূল কার্যত ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা শুরু থেকেই নিজের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। ভোটের দিন থেকেই তিনি দাবি করে আসছেন, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। গণনা শুরুর আগেও তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। বিজেপি শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষের বিপুল সাড়া তাঁদের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।
আজ গণনাকেন্দ্রের বাইরে সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে গণনার প্রথম রাউন্ডের ট্রেন্ড ইতিমধ্যেই তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে আজ পদ্ম ফোটার সম্ভাবনা প্রবল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হলে পরিষ্কার হবে আগামী দিনের বাংলার রাজনীতির গতিপথ।





