অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলায় আজ কলকাতা হাইকোর্টে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি।
শুনানির শুরুতেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘একজন তিনবারের সাংসদ এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করলেন? ভোটের আগে এহেন মন্তব্যের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল?’’ বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক দল সভা থেকে কী বলছে তা নিয়ে আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। এখানে বিচার্য হলো, একজন দায়িত্বশীল সাংসদ হিসেবে তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত কি না।
বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ভোট-পরবর্তী হিংসার যে কালো ইতিহাস রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে এই ধরনের মন্তব্য কি তাঁর স্ট্যাটাসের সঙ্গে যায়? নির্বাচনের সময় পারদ চড়া থাকলেও, একজন জনপ্রতিনিধির কাছে বিচক্ষণতা আশা করা হয়। যদি নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম হতো, তবে এই মন্তব্যের জেরে কী পরিস্থিতি তৈরি হতো?’’
অভিষেকের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়ালের জবাবে যুক্তি দেন যে, ভোটের সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই হয়তো এমন মন্তব্য করেছিলেন তাঁর মক্কেল। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। কিন্তু বিচারপতি সে যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানান, অন্য কারও বিষয় এখানে আলোচনার অবকাশ নেই।
তীব্র ভর্ৎসনা এবং সতর্কবাণী সত্ত্বেও, আদালত এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ প্রদান করেছে। তবে এই রক্ষাকবচ প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। নির্দেশে বলা হয়েছে:
১. তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেককে ডেকে পাঠালে তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
২. তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে ডেকে পাঠালে ন্যূনতম ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।
৩. আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জননেতাদের উচিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল আচরণ করা। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে। আদালতের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, কারণ বিচারপতির ব্যক্তিগত ভর্ৎসনার পরেও তাঁকে আইনি সুরক্ষার আওতাতেই রাখা হয়েছে।





