ভারতে হুহু করে বাড়তে থাকা অনলাইন সেনসেশন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) বা সিজেপি (CJP)-কে ঘিরে উত্তেজনা এবার তুঙ্গে। মাত্র কয়েক দিনে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি (১২ মিলিয়ন) ফলোয়ারের মাইলফলক ছুঁয়ে খোদ শাসকদল বিজেপি-কে পেছনে ফেলে দিয়েছে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল। তবে এই বিপুল জনপ্রিয়তার পরপরই ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টটি আইনি নির্দেশে ব্লক বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এই টানাপড়েনের মাঝেই আমেরিকার বোস্টন থেকে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন দলের ৩০ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দিপকে (Abhijeet Dipke)। তাঁর আশঙ্কা, ভারতে পা রাখলেই তাঁকে সোজা পুলিশি হেফাজতে যেতে হতে পারে।
‘দিল্লি নামলেই পুলিশের কনভয় তাড়া করবে’
আমেরিকার বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনস নিয়ে সদ্য পড়াশোনা শেষ করা অভিজিত দিপকে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার স্পষ্ট মনে হচ্ছে, আমি ভারতের মাটি ছুঁয়ে দিল্লি এয়ারপোর্টে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লি পুলিশের একটি বড় কনভয় আমাকে সোজা তিহাড় জেলে নিয়ে যাবে।” ভারতে তাঁর দলের এক্স অ্যাকাউন্টটি ব্লক করার ঘটনা নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “যেমনটা আশা করা হয়েছিল, ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির কণ্ঠরোধ করতে অ্যাকাউন্টটি আটকে দেওয়া হয়েছে।”
কেন তৈরি হলো এই ‘আরশোলা পার্টি’? নেপথ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি
এই অভূতপূর্ব আন্দোলনের সূত্রপাত কিন্তু খুব সাধারণ এক ক্ষোভ থেকে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত দেশের বেকার যুবকদের একাংশকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেছিলেন যে, কিছু যুবক আরশোলা বা পরজীবীর মতো, যারা কোনো কাজ না পেয়ে সমাজমাধ্যম বা আরটিআই (RTI) কর্মী সেজে সবাইকে আক্রমণ করে।
বিচারপতির এই ‘আরশোলা’ মন্তব্যে দেশের ক্ষুব্ধ জেন-জি (Gen-Z) এবং বেকার যুবকদের একাংশ চরম অপমানিত বোধ করেন। ডিজিটাল পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিত দিপকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এআই (AI) টুলের সাহায্যে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম দেন, যা মূলত বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, নিট (NEET) পরীক্ষার জালিয়াতি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক অভিনব সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিবাদ।
প্রতিষ্ঠাতার বার্তা: অভিজিত বলেন, “শাসকরা যখন দেশের যুবসমাজকে আরশোলা মনে করে, তখন আমরাও দেখাব আরশোলার ক্ষমতা কতখানি। আমরা অলস এবং বেকারদের কণ্ঠস্বর।”
‘বিজেপি বনাম সিজেপি’— পাশে দাঁড়াচ্ছেন বিরোধী হেভিওয়েটরা
শুরুটা স্রেফ একটা ইন্টারনেট ট্রোল বা মিম (Meme) আন্দোলন হিসেবে হলেও, বর্তমানে ভারতের প্রথম সারির বিরোধী নেতারা এই ককরোচ পার্টির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এক্স হ্যান্ডেলে এক লাইনে লিখেছেন— “BJP versus CJP”।
আম আদমি পার্টির নেতা মণীশ সিসোদিয়া ভিডিও বার্তায় বলেন— “আমিও একজন আরশোলা। কুমির আর আরশোলার লড়াইয়ে আমি সিজেপি-র পাশে আছি।”
তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদও এই ট্রেন্ডে যোগ দিয়ে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এই ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী একে ভারতের যুবসমাজের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রাগের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন।
যদিও নির্বাচন কমিশনের আইনি মারপ্যাঁচে এই দল ভোটের ইভিএম (EVM)-এ আদেও জায়গা পাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে, তবে মার্কিন মুলুক থেকে শুরু হওয়া অভিজিতের এই ‘আরশোলা আন্দোলন’ যে এই মুহূর্তে ভারতের সাইবার দুনিয়া কাঁপিয়ে দেশের শাসক শিবিরকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে, তা মানছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, অভিজিত ভারতে ফিরলে সত্যিই তিহাড় জেলে যান কি না।





