নতুন প্রশাসনিক নিয়ম এবং আইনি কড়াকড়ির জেরে এবার চরম সংকটে রাজ্যের বন্যপ্রাণীরা! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি গরু ও মোষ জবাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আর এই নতুন নিয়মের ধাক্কায় কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানা এবং শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কের (Bengal Safari) মাংসাশী প্রাণীদের দৈনিক খাবার বা ‘রেড মিট’-এর জোগান রাতারাতি তলানিতে ঠেকেছে। খাঁচার ভেতরে থাকা বাঘ, সিংহ, চিতা এবং হায়নাদের পেট ভরাবে কে, তা নিয়ে এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের।
হঠাৎ কেন এই সংকট? নতুন নিয়মের ফাঁসে কসাইখানা
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ মেনে রাজ্য জুড়ে বেআইনি কসাইখানা বন্ধের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গবাদি পশু (গরু বা মোষ) জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি, কোনো পশুকে জবাই করার আগে সরকারি পশু চিকিৎসকের (Veterinary) কাছ থেকে শারীরিক যোগ্যতার শংসাপত্র বা ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কড়াকড়ির জেরে কলকাতার ট্যাংরা-সহ বিভিন্ন পুরসভা এলাকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানাগুলোতে মোষ ও গরুর জোগান প্রায় বন্ধ। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বন্যপ্রাণীদের দৈনিক খাদ্যতালিকায়।
মুরগি ও শুয়োরের মাংস দিয়ে সামাল দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা
চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে খাঁচার হিংস্র পশুদের ক্ষিদে মেটাতে বিকল্প পথ খুঁজছেন কর্তৃপক্ষ।
আলিপুর চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর তৃপ্তি শাহ জানিয়েছেন, ট্যাংরা থেকে মাংসের সাপ্লাই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সাময়িকভাবে বাঘ ও সিংহদের জন্য মুরগির মাংসের (Chicken) ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে বিকল্প হিসেবে শুকরের মাংস (Pork) বা হরিণঘাটা থেকে বিকল্প উপায়ে ‘রেড মিট’ জোগাড় করার চেষ্টা চলছে।
তবে প্রতিদিন যেখানে আলিপুর চিড়িয়াখানার মাংসাশী প্রাণীদের জন্য প্রায় ১৫০ কেজি মাংসের প্রয়োজন হয়, সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিকল্প মাংস নিয়মিত জোগাড় করা একটি বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের ঘোর উদ্বেগ: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘ বা সিংহের মতো বড় বিড়াল প্রজাতির (Big Cats) প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য এবং শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত ‘রেড মিট’ বা মহিষের মাংস অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে কেবল মুরগির মাংস খাওয়ালে তাদের শরীরে প্রোটিন ও ফ্যাটের ঘাটতি দেখা দেবে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেবে এবং মেজাজকে হিংস্র ও খিটখিটে করে তুলবে।
খিদের চোটে ফুঁসছে খাঁচার রাজারা!
বেঙ্গল সাফারি পার্কে থাকা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ‘বিভান’, ‘শীলা’ কিংবা চিতাবাঘ ‘শচীন’, ‘সৌরভ’-দের ডায়েট চার্ট অনুযায়ী প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ কেজি করে মাংসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কড়াকড়ির জেরে গত কয়েকদিনে তাদের পাতেও টান পড়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, দ্রুত যদি এই সরকারি জট বা জোগানের সমস্যার সমাধান না হয়, তবে খাঁচার রাজাদের গর্জন ক্ষিদে আর যন্ত্রণার আর্তনাদে পরিণত হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শুরু করেছে চিড়িয়াখানা প্রশাসন।





