চলতি আইপিএলে (IPL 2026) কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর বোলিং বিভাগের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ তিনি। তাঁর ঘূর্ণিতে কুপোকাত হচ্ছেন বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটাররা। কিন্তু মাঠের ভেতরে খ্যাপাটে উল্লাসে মেতে থাকা কেকেআর-এর এই ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ বরুণ চক্রবর্তীর (Varun Chakravarthy) হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক চরম কষ্ট ও যন্ত্রণা! দলের স্বার্থে এবং কলকাতাকে ট্রফি জেতানোর লক্ষ্যে গুরুতর চোট নিয়েই প্রতি ম্যাচে খেলছেন বরুণ। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন (Shane Watson) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করার পর থেকেই ক্রিকেট মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
কী বললেন অজি কিংবদন্তি শেন ওয়াটসন?
একটি ক্রিকেটভিত্তিক শো-তে বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে গিয়ে শেন ওয়াটসন তাঁর এই গোপন শারীরিক সমস্যার কথা সামনে আনেন। ওয়াটসন বলেন, “অনেকেই হয়তো জানেন না, বরুণ এই মুহূর্তে এক তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও চোট নিয়ে খেলছেন। বিশেষ করে ওঁর হাঁটু এবং শরীরের নিচের অংশে বড় সমস্যা রয়েছে। একজন স্পিনারের জন্য শরীরকে বাঁকিয়ে বল করা কতটা কষ্টের, তা কেবল চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়রাই বোঝেন। কিন্তু বরুণ নিজের কষ্টের কথা ভাবছেন না, ও শুধু ভাবছে দলের জেতার কথা।”
চোট লুকিয়েই বল হাতে একের পর এক ম্যাজিক
আইপিএলের মরশুম যত গড়াচ্ছে, বরুণ চক্রবর্তীর বলের ধার তত বাড়ছে। কেকেআর-এর মেন্টর এবং কোচের অন্যতম বড় বাজি এই স্পিনার মাঝের ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষের রানের গতি টেনে ধরছেন এবং নিয়মিত উইকেট তুলছেন।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, চোটের কারণে বরুণের স্বাভাবিক হাঁটাচলাতেও কিছুটা সমস্যা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু বোলিং রান-আপে যাওয়ার সময় তিনি সব ভুলে যাচ্ছেন। দলের প্রতি তাঁর এই নজিরবিহীন দায়বদ্ধতা দেখে মুগ্ধ ক্রিকেট দুনিয়া।
ওয়াটসনের কুর্নিশ: “দলের প্রয়োজনে নিজের ক্যারিয়ার এবং শরীরকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার এই মানসিকতা সত্যিই বিরল। বরুণ চক্রবর্তী কেকেআর-এর আসল আনসাং হিরো।”
চিন্তায় নাইট শিবির ও কলকাতা ভক্তরা
বরুণের এই চোটের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কেকেআর ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। টুর্নামেন্টের এই নক-আউট বা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বরুণ যদি চোটের কারণে কোনো ম্যাচ মিস করেন, তবে নাইটদের বোলিং লাইনাপ বড়সড় ধাক্কা খাবে। তবে ওয়াটসনের এই দাবির পর নাইট শিবিরের টিম ম্যানেজমেন্ট বরুণের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের (খেলার ধকল সামলানো) ওপর আরও বেশি নজর দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যন্ত্রণাকে জয় করে বরুণের এই লড়াই কেকেআর-কে ট্রফি এনে দিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।





