“রাজ্যে আজ থেকেই লাগু CAA!”-নবান্ন থেকে মমতার প্রাক্তন সরকারকে তীব্র তোপ শুভেন্দুর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর, রাজ্যে ক্ষমতা হাতে নিয়েই একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তর করা হবে। সেই কথামতোই বুধবার থেকে শুরু হয়ে গেল জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া।

বুধবার নবান্ন সভাঘরে বিএসএফ কর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই আমলারা জমির একটি বড় অংশ হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্তে ২৭ কিলোমিটার বেড়া দেওয়ার জন্য জমি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফ-এর হাতে তুলেও দেওয়া হয়েছে।

পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

এই জমি হস্তান্তর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ:

“বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য বিএসএফ অনেক আগেই রাজ্যের কাছে জমি চেয়েছিল। কিন্তু শুধুমাত্র ‘তোষণের রাজনীতি’র কারণে আগের সরকার সেই জমি দেয়নি।”

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, রাজ্যে মোট ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যার মধ্যে ৫৫৫ কিলোমিটার বেড়ার জমি পূর্বতন সরকার চাইলেই দিতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি।

রাজ্যে কার্যকর সিএএ: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য কড়া বার্তা

এদিনের বৈঠক থেকে জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি রাজ্যে সিএএ (CAA) কার্যকর করার বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:

  • যাঁরা সিএএ-র (CAA) অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁরা প্রত্যেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।

  • রাজ্য পুলিশ এই ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেফতার করবে এবং সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে।

  • এরপর তাঁদের দেশ থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হবে।

  • এই আইন আজ অর্থাৎ বুধবার থেকেই রাজ্যে কার্যকর করা হলো।

কেন্দ্রের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতিতে সিলমোহর

প্রসঙ্গক, ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়িয়েছিলেন। ‘অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করা হবে’— কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই বার্তাকেই এবার বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য গত বছরই কেন্দ্র থেকে রাজ্যকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) নীতি কার্যকর করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy