মধ্যবিত্তের নিজের একটা বাড়ির স্বপ্নকে হাতিয়ার করে বহু কোটি টাকার ভয়ঙ্কর জালিয়াতি! উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি হাই-প্রোফাইল আবাসন প্রকল্পে ঘটে যাওয়া এই মেগা স্ক্যামের পর্দাফাঁস করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। সিবিআই-এর সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে এক হাড়হিম করা তথ্য— সাধারণ বাড়ি ক্রেতাদের ঠকাতে নেপথ্যে হাত মিলিয়েছিল খোদ আবাসন নির্মাতা (Builder) এবং ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা!
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং কোটি কোটি টাকার খেলা
তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজিয়াবাদের এই আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। ক্রেতাদের আকর্ষিত করতে দেওয়া হয়েছিল বড় বড় চটকদার ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি, উল্টো সাধারণ মানুষের সেই কষ্টের টাকা কর্পোরেট দুর্নীতির অন্ধকার গলিতে হাওয়া হয়ে গিয়েছে।
কীভাবে চলত বিল্ডার-ব্যাংক ‘নেক্সাস’?
সিবিআই তদন্তে স্পষ্ট যে, এটি কোনো সাধারণ আর্থিক জালিয়াতি নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’।
নির্মাতা সংস্থার ডিরেক্টর এবং কর্তারা ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভেতরের হাত মিলিয়েছিলেন।
নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার লোন পাস করানো হয়েছিল।
বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো নথি বা বাড়ি ক্রেতাদের অজান্তেই তাদের নামে লোন তুলে সেই টাকা অন্য খাতে ট্রান্সফার (Siphoning of Funds) করে দেওয়া হয়েছিল।
সিবিআই-এর পর্যবেক্ষণ: > এই চক্রে বিল্ডার ও ব্যাংক অফিসারদের পাশাপাশি বেশ কিছু প্রভাবশালী বেসরকারি ব্যক্তিও জড়িত ছিলেন, যারা পর্দার আড়াল থেকে এই কালো টাকা সাদা করার খেলায় সাহায্য করেছেন।
তদন্তে যুগান্তকারী সাফল্য
বাড়ি ক্রেতাদের দায়ের করা প্রতারণার মামলার তদন্তে নেমে সিবিআই যে তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়েছে, তা এই আবাসন কেলেঙ্কারির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্ত এবং ব্যাংকের সন্দেহভাজন আধিকারিকদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে এবং একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বহু আপত্তিকর নথি বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
এই পর্দাফাঁসের পর গাজিয়াবাদ সহ গোটা দেশের আবাসন সেক্টরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা টাকা হারিয়ে এখন সিবিআই-এর দিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন প্রতারিত শত শত বাড়ি ক্রেতা। গোয়েন্দাদের দাবি, খুব শীঘ্রই এই চক্রের মূল হোতাদের গারদের পেছনে পাঠানো হবে।





