মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাই-প্রোফাইল বেইজিং সফর শেষ হতে না হতেই বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও রোমহর্ষক কূটনৈতিক মোড়! ট্রাম্পের বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চীনে পা রাখছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ১৯ ও ২০ মে— দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন ক্রেমলিন প্রধান।
একই মাসে বিশ্বের দুই মহাশক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আতিথেয়তা দিয়ে চীন কার্যত বুঝিয়ে দিল, বর্তমান ভূ-রাজনীতির আসল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে। ট্রাম্পের পর পুতিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে এখন তীব্র উত্তেজনা ও কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের সফর বনাম পুতিনের আগমন: পর্দার আড়ালে কী?
দীর্ঘ ৯ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৪ থেকে ১৬ মে ৩ দিনের এক ঐতিহাসিক চীন সফর শেষ করেছেন। সেই সফরে বাণিজ্য যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের (বিশেষ করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ ইরান হামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এনার্জি ক্রাইসিস) পরিস্থিতি নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্প আমেরিকা ফিরতেই বেইজিংয়ে লাল গালিচা পাতা হচ্ছে পুতিনের জন্য।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের সফরটি যতটা জাঁকজমকপূর্ণ ছিল, পুতিনের সফরটি আড়ম্বরে কিছুটা হালকা হলেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও রণকৌশলগত দিক থেকে অনেক বেশি মারাত্মক হতে চলেছে।
কোন কোন এজেন্ডায় কাঁপছে বিশ্ব?
চীন-রাশিয়া মৈত্রীর ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে পুতিনের এই ২৫তম চীন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে আসল নজর থাকবে অন্য জায়গায়:
ইরান সংকট ও জ্বালানি যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন লেগেছে। ইরান যেহেতু চীন ও রাশিয়া উভয়েরই ঘনিষ্ঠ কৌশলগত বন্ধু, তাই ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাবের পর পুতিন ও শি জিনপিং যৌথভাবে কী পাল্টা চাল চালেন, সেদিকেই নজর ওয়াশিংটনের।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল: ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে চীনের ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল মস্কো। এই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতাকে আরও একধাপ ওপরে নিয়ে যাওয়ার নথিতে সই করবেন দুই নেতা।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা: “একদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে স্থিতিশীল বাণিজ্যের বার্তা দেওয়া, অন্যদিকে ঠিক তার পরেই নিজের ‘পুরনো বন্ধু’ পুতিনকে বুকে টেনে নেওয়া— শি জিনপিং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন। বেইজিং এখন ওয়াশিংটন ও মস্কো— দুই মেরুরই প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, যা আমেরিকার একাধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা।”
হোয়াইট হাউসের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে চীন-রাশিয়ার এই গভীর রসায়ন কি বিশ্বে নতুন কোনো যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে? কমেন্ট বক্সে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানান এবং খবরটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।





