পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের সম্পত্তি এবং বেআইনি নির্মাণ নিয়ে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে নতুন প্রশাসন। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থায় এবং তাঁর পরিবারের সাথে যুক্ত ১৭টি ঠিকানায় বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। এই হাই-প্রোফাইল ইস্যুতেই এবার অত্যন্ত বিস্ফোরক ও কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
তাঁর সাফ কথা, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেখানে যেখানে অবৈধ নির্মাণ বা সম্পত্তি রয়েছে, তার সবকটিতেই নোটিস পাঠিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত প্রশাসনের।
দিলীপ ঘোষের কড়া বার্তা ও তোপ
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ কড়া মেজাজেই ধরা দেন দিলীপ ঘোষ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিকানায় পুরসভার নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। বেআইনি নির্মাণ যেই করে থাকুক না কেন, পুরসভা তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবেই। নোটিস পাঠানো হয়েছে, এবার আইনি বৈধতা প্রমাণ করার দায়িত্ব তাঁদের।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শুধু একটি বা দুটি জায়গায় নয়, অভিষেকের যেখানে যেখানে অবৈধ নির্মাণ হয়েছে, সেখানেই নোটিস দেওয়া উচিত। আইনি প্রমাণ দেখাতে না পারলে নিয়ম অনুযায়ী বুলডোজার চলবে।”
১৭টি ঠিকানায় পুরসভার নোটিস!
কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে কেএমসি অ্যাক্ট, ১৯৮০-র ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা-মা এবং তাঁর সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সাথে যুক্ত হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড সহ মোট ১৭টি ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছে।
৭ দিনের ডেডলাইন: আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদিত নথিপত্র এবং অতিরিক্ত নির্মাণের কৈফিয়ত দিতে বলা হয়েছে।
ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি: সন্তোষজনক উত্তর না মিললে পুরসভা নিজেই ওই বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলবে এবং তার খরচ মালিকের থেকে উসুল করা হবে বলে সাফ জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর যেভাবে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে হানা দেওয়া শুরু হয়েছে, তাতে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য তৃণমূলের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। রাজ্যে ‘বুলডোজার নীতি’ এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের যে সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল, তা এবার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুয়ারে এসে পৌঁছেছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন সরকারের এই সাঁড়াশি অভিযান এবং দিলীপ ঘোষের কড়া হুঁশিয়ারিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।





