ভবানীপুরে খোদ মমতার বুথেই মহাবিপর্যয়! ‘ঘরের মেয়ে’র ওয়ার্ডে ৫০টি ভোটও পেল না তৃণমূল? কমিশনের রিপোর্টে স্তব্ধ বাংলা

বাংলার রাজনৈতিক মহলে এবার এক মস্ত বড়সড় বোম ফাটাল খোদ নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তৃণমূল কংগ্রেসের অবিসংবাদিত সুপ্রিমো এবং বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের খাসতালুক বলে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্র নিয়ে সামনে এলো এক হাড়হিম করা তথ্য। যে ভবানীপুরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে নিরাপদ দুর্গ এবং তাঁকে ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে চেনে রাজনৈতিক মহল, সেই কেন্দ্রেরই বেশ কয়েকটি বুথের ভোট গণনার যে হিসাব কমিশন দিয়েছে, তা দেখে কার্যত চোখ চড়কগাছ জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের।

কমিশনের অফিশিয়াল রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ভবানীপুরের একাধিক বুথে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলিতে ৫০টি ভোটও পড়েনি! নিজের গড়েই জননেত্রীর এমন হাল কেন হলো, তা নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।

কী বলছে নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল হিসাব?

ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ও বুথভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বেশ কিছু নির্দিষ্ট বুথে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক কার্যত ধসে গেছে।

  • ৫০-এর নিচে আটকে গেল ভোট: অন্তত ৪ থেকে ৫টি বুথ এমন রয়েছে, যেখানে তৃণমূল প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ডবল ডিজিট অর্থাৎ ৫০-এর গণ্ডিও পার করতে পারেনি।

  • কোন কোন এলাকায় এই ধস? দলীয় সূত্রে খবর, ভবানীপুরের কিছু মিশ্র জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা এবং অভিজাত আবাসন এলাকার বুথগুলোতেই এই নজিরবিহীন ভোট বিপর্যয় ঘটেছে।

চেনা দুর্গে কেন এই ফাটল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে যেখানে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ভোটার এবং যেখান থেকে তিনি বারবার নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে এই ধরণের পরিসংখ্যান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে: ১. শহুরে ভোটারদের অসন্তোষ: সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং দুর্নীতির ইস্যুকে কেন্দ্র করে কলকাতার শহুরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ভোটারদের একাংশ যে তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন, এই বুথগুলোর ফলাফল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২. অ-বাঙালি ভোট ব্যাঙ্কে ধস: ভবানীপুরের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন অ-বাঙালি ভোটাররা। ওই নির্দিষ্ট বুথগুলোতে বিরোধী শিবিরের প্রচার এবং মেরুকরণের রাজনীতি তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে বড়সড় থাবা বসাতে সফল হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: “১০০ বা ২০০ ভোটের ব্যবধানে হারা এক বিষয়, কিন্তু খোদ দলনেত্রীর কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি বুথে ৫০টি ভোটও না পাওয়াটা তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই নগ্ন করে দিচ্ছে। লোকসভা বা উপনির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে হয়তো দল জিতেছে, কিন্তু বুথভিত্তিক এই ফাটল যদি এখনই মেরামত না করা হয়, তবে আগামী দিনে কলকাতার মাটিতে তৃণমূলের জমি আরও নরম হতে পারে।” — বক্তব্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

নিজের চেনা বুথেই ভোটের এই করুণ দশা নিয়ে ইতিমধ্যেই কালীঘাটে দলের অন্দরে চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং রিপোর্ট তলব করা শুরু হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। মমতার নিজের গড়েই তৃণমূলের এই ভোট বিপর্যয়কে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে আপনার বিস্ফোরক মতামত জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy