ভারতীয় মুদ্রার বাজারে নজিরবিহীন বিপর্যয়! ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার (Indian Rupee) পতন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের একের পর এক ধাক্কায় সোমবারও সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে টাকার দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি ডলারে ৯৬.৩৯ টাকা। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, যেভাবে টাকার দর কমছে, তাতে খুব দ্রুতই হয়তো সেঞ্চুরি হাঁকাবে ডলার, অর্থাৎ ১ ডলার কিনতে ভারতীয় মুদ্রায় খরচ করতে হবে ১০০ টাকা!
টাকার এই অবাধ পতনের জেরে দেশের অর্থনীতিতে এক বড়সড় ‘অশনি সঙ্কেত’ দেখছেন খোদ অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে।
কেন হু হু করে কমছে টাকার দাম?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্তর্জাতিক বিপর্যয়ের পেছনে মূল কারণ তিনটি:
ইরান যুদ্ধ ও অপরিশোধিত তেলের কোপ: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Brent Crude) দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত তার প্রয়োজনের ৮০%-এর বেশি তেল আমদানি করে। ফলে তেল কিনতে ভারতকে এখন অনেক বেশি ডলার খরচ করতে হচ্ছে, যা টাকার ওপর প্রচণ্ড চাপ বাড়াচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাত গুটিয়ে নেওয়া: চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২৩.৫ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। ফলে দেশ থেকে ডলার বাইরে চলে যাচ্ছে।
শক্তিশালী মার্কিন ডলার: বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের সূচক (Dollar Index) এক লাফে ৯৯ ছাড়িয়ে গেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা এখন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদদের মতে, টাকা যদি ১০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলে, তবে ভারতের আমদানি খরচ আকাশছোঁয়া হবে। এর ফলে: ১. ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি: বিদেশ থেকে আমদানি করা জিনিসপত্র— যেমন ভোজ্য তেল, ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল, ল্যাপটপ এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। ২. জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা পরোক্ষভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের হুঁশিয়ারি: প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু সহ একাধিক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন যে, এই পতন শুধু যুদ্ধের কারণে নয়। দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) ঘাটতিও এর জন্য দায়ী। আরবিআই (RBI) যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া পদক্ষেপ না নেয়, তবে ১০০-র ঘরে পৌঁছানো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) বাজারে ডলার বিক্রি করে টাকার পতন আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে সোনা ও রুপো আমদানির নিয়মেও কড়াকড়ি করেছে কেন্দ্র।
টাকার এই ঐতিহাসিক পতন এবং জিনিসপত্রের দাম বাড়ার আশঙ্কাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।





