দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকা জেএনইউ-এর (JNU) প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদের (Umar Khalid) স্বস্তির আশায় ফের একবার জল ঢেলে দিল আদালত। মায়ের হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের (Interim Bail) আবেদন জানিয়েছিলেন উমর। কিন্তু আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ— মায়ের এই অস্ত্রোপচার এমন কোনো গুরুতর বা জরুরি বিষয় নয় যার জন্য কোনো অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তী জামিন দিতে হবে। এই যুক্তিতেই উমরের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি হিংসা মামলায় কড়া ইউএপিএ (UAPA) আইনে বন্দি থাকা উমর খালিদের জন্য আদালতের এই সিদ্ধান্তকে এক বিরাট ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন উমর খালিদের আইনজীবী সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেলের মায়ের একটি বড় অস্ত্রোপচার হতে চলেছে এবং এই সময়ে মায়ের পাশে থাকার জন্য উমরের সাময়িক মুক্তি প্রয়োজন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর তীব্র বিরোধিতা করেন। সমস্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এই ধরণের অস্ত্রোপচার একটি রুটিন চিকিৎসার অংশ এবং এর জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা দেখাশোনা করতে পারেন। তাই এটি জামিন পাওয়ার মতো কোনো ‘গুরুতর বা জরুরি পরিস্থিতি’ নয়।
জেল হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে উমরের
এর আগেও একাধিকবার উমর খালিদের নিয়মিত ও অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার পেছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া উমর দীর্ঘ সময় ধরে জেলবন্দি। প্রতিবারই তাঁর আইনজীবীরা মানবিক দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের কথা মাথায় রেখে আদালত প্রতিবারই কড়া অবস্থান নিয়েছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে: ইউএপিএ (UAPA) ধারার মামলাগুলোতে আইনি জটিলতা এমনিতেই অনেক বেশি থাকে। আদালত যখন কোনো মামলার ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নেয়, তখন পারিবারিক বা মানবিক কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। উমর খালিদের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটেছে।
আদালতের এই কড়া সিদ্ধান্তের পর উমর খালিদের আইনজীবী আগামী দিনে উচ্চতর আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন কি না, এখন সেটাই দেখার। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান।





