পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার প্রশাসনিক স্তরে আরও এক বড়সড় রদবদল। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের চেনা পথ থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)-র জল ছাড়া নিয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় স্তরের বৈঠকে নিজেদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠাল নবান্ন।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো ও নীতিতে যে আমূল বদল আসছে, এই সিদ্ধান্ত তারই এক মস্ত বড় প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মমতার পথ থেকে কেন সরলেন শুভেন্দু?
বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, ডিভিসি জল ছাড়লেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘ম্যানমেড বন্যা’ বলে তোপ দাগতেন এবং ডিভিসি-র সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার বা বৈঠক বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিতেন। কিন্তু নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম থেকেই সংঘাতের চেয়ে সমাধানের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্যা রুখতে কেন্দ্রের সঙ্গে দূরত্ব বজায় না রেখে, বরং টেবিলে বসে যৌথ রণকৌশল তৈরি করাই এখন নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।
বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের সেচ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা ডিভিসি-র এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বৈঠকে যোগ দেন।
আগে থেকে সতর্কতা: ঝাড়খণ্ড বা ডিভিসি-র জলাধারগুলো থেকে জল ছাড়ার আগে রাজ্যকে যেন পর্যাপ্ত সময় দিয়ে সতর্ক করা হয়, সেই দাবি জোরালোভাবে তোলা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন: বর্ষার আগেই নদীবাঁধ সংস্কার এবং পলি তোলার কাজে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: “এতদিন ডিভিসি আর বন্যা নিয়ে শুধু রাজনীতি এবং কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর দেখেছে বাংলার মানুষ। শুভেন্দু অধিকারী এই বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন যে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি বাঁচানোর জন্য দিল্লির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে তাঁর সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।” — বক্তব্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
বন্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারের এই বাস্তবমুখী ও সমন্বয়ের নীতি কি সত্যিই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোকে প্লাবনের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে? কমেন্ট বক্সে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানান।





