আরব দুনিয়াকে পাশে পেয়ে মাস্টারস্ট্রোক মোদীর! মাঝসমুদ্রে যুদ্ধের আবহেই ভারতের হাতে এল ৪২ হাজার কোটির মহাভাণ্ডার!

মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম হাহাকার আর অস্থিরতার কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে এক লহমায় নিশ্ছিদ্র করে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক কূটনীতির দাবার বোর্ডে এক চরম মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে ভারতের কৌশলগত ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারের (Strategic Petroleum Reserve) চাবিকাঠি আরও মজবুত করল দিল্লি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (ADNOC) ভারতের মাটিতে থাকা এই বিশেষ ভাণ্ডারে বিপুল পরিমাণ অর্থাৎ ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রাখতে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঝটিকা আবু ধাবি সফরের ঠিক পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী চুক্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে এই মুহূর্তে পণ্য ও তেল পরিবহন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে যেকোনো মুহূর্তে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ‘নিরাপদ জলপথ এবং বাধাহীন নৌ-পরিবহন’ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক এই চরম অস্থিরতার মাঝেই ভারতের জ্বালানি সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের এই চুক্তিটি দিল্লির জন্য এক মস্ত বড় ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরের ঝুলি থেকে শুধু অপরিশোধিত তেলই নয়, আরও একাধিক বড় সাফল্য উঠে এসেছে। ভারতের মাটিতে যৌথভাবে ‘কৌশলগত গ্যাস রিজার্ভ’ বা গ্যাস ভাণ্ডার গড়ে তোলার বিষয়েও দুই দেশ একযোগে কাজ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOCL) এবং আমিরশাহির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অ্যাডনক-এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী এলপিজি (LPG) সরবরাহের চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে, যা আগামী দিনে ভারতের ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের বাজারকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রাখবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের সাধারণ মানুষকে চরম সংকটের হাত থেকে রক্ষা করবে।

একই সঙ্গে, এই সফরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে অত্যন্ত গম্ভীর আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি আমিরশাহির ওপর হওয়া জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করে ভারতের তরফ থেকে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশ একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছে। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়, জ্বালানি ক্ষেত্রের বাইরেও এই সফরে ভারতের ব্যাঙ্কিং, ফিন্যান্স এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ৫ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) এক বিশাল বিনিয়োগের রাস্তা পরিষ্কার হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিফেন্স, জাহাজ নির্মাণ এবং অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, আমিরশাহি আজ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম বিশ্বস্ত অংশীদার হয়ে উঠেছে এবং এই নতুন চুক্তিগুলির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল বাণিজ্যিক লেনদেনের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক ‘কম্প্রিহেনসিভ এনার্জি পার্টনারশিপ’ বা সামগ্রিক কৌশলগত জোটে রূপ নিল, যা ভারতের শত্রুদেশগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy