‘আমি নন্দীগ্রামের মানুষদের অভিভাবকহীন করব না’, বিধায়ক পদ ছাড়ার পর কেন এমন বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী?

ডায়মন্ড হারবারের মেগা কর্মসূচি শেষ করেই আজ সরাসরি নন্দীগ্রাম সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম নন্দীগ্রাম সফর, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রামে পৌঁছেই রেয়াপাড়া পার্টি অফিসে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও কর্মীদের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হবেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ ও সাক্ষাৎ করার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

গত শুক্রবারই সকলকে চমকে দিয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে গিয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই সিদ্ধান্তের পর শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, সম্পূর্ণ নিয়ম ও সাংবিধানিক প্রটোকল মেনেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাঁধে এক বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। এখন তাঁর লক্ষ্য নির্দিষ্ট কোনও একটি কেন্দ্র নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসন জুড়েই সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানুষের জন্য কাজ করা। তবে বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকার বিষয়ে তিনি ১০০ শতাংশ আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষদের আমি কখনও বুঝতে দেব না যে তাঁদের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী নন।” তিনি সাফ জানান, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের কাজ আগের মতোই গতিতে চলবে এবং ইতিমধ্যেই সেখানে সকাল থেকে জলের পাইপ বসানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে।

এরই সঙ্গে এদিন নন্দীগ্রামের পূর্বতন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, অতীতে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই এলাকার সমস্ত রকম উন্নয়নমূলক কাজ সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষকে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবে এখন আর তা হবে না। থমকে থাকা সেই সমস্ত কাজ ফের নতুন করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সুবিধার কথা মাথায় রেখে তা দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে মহাসমারোহে শপথ নেন তিনি এবং নিয়মমাফিক নন্দীগ্রামের আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিধায়ক পদ ছাড়ার পর আজ নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কী নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy