কলকাতার রাজাবাজার এলাকায় রাস্তায় নমাজ পাঠকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ, রাস্তায় নমাজ পাঠের জেরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশ তা নিয়মের মধ্যে আনার চেষ্টা করতেই একদল উন্মত্ত যুবক খোদ পুলিশকর্মীদের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলার ছক কষে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। খোদ কলকাতার বুকে পুলিশের ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
রাজাবাজারের এই হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং উদ্বেগজনক বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, “একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কিছু যুবক প্রকাশ্য রাস্তায় আইন অমান্য করে নমাজ পড়ার জিদ ধরেছিল। পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তা রুখতে যায়, তখন তাঁদের ওপরেই নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, খোদ পুলিশকে টার্গেট করার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজ্যে তোষণের রাজনীতি কোন স্তরে পৌঁছেছে, রাজাবাজারের ঘটনাই তার সবথেকে বড় প্রমাণ। অপরাধীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার রেশ ধরে রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়েও এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দিলীপ ঘোষ। শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক লড়াই এবং রাজ্যে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে এই ধরণের অরাজকতা এবং তোষণের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত সরব হচ্ছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রাজাবাজারের মতো ঘটনা প্রমাণ করে দেয় যে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যজুড়ে যে ধরণের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়ছেন, সেই লড়াই কতটা প্রাসঙ্গিক ও জরুরি ছিল। এই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার যে চরম অবনতি হয়েছে, তা শুভেন্দুবাবু বারবার সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, কারণ এটি দলের ভেতরের একতা এবং শুভেন্দুর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থাকেই পুনর্ব্যক্ত করে।
বর্তমানে রাজাবাজার এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। যে কোনো ধরণের নতুন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত যুবকদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চরম রূপ নিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই খোদ কলকাতায় পুলিশ আক্রান্ত হচ্ছে, অন্যদিকে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আপিল জানিয়ে বলা হয়েছে যে আইন আইনের পথেই চলবে। সবমিলিয়ে রাজাবাজারের এই ঘটনা এবং তা নিয়ে দিলীপ ঘোষের আক্রমণাত্মক বয়ান আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।





