রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম জুম্মার নমাজ ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার রাজাবাজার এলাকা। প্রকাশ্য রাস্তা আটকে নমাজ পাঠ করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় একদল মুসলিম যুবকের মধ্যে তীব্র বচসা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত এলাকায় নামাতে হয় আধাসামরিক বাহিনী (CRPF)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে রাজাবাজার এলাকায় রাস্তা আটকে নমাজ পাঠ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন স্থানীয় কিছু যুবক। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকা মেনে পুলিশ কর্মীরা তাঁদের রাস্তায় নমাজ পাঠ করতে বাধা দেন। এর পরেই পুলিশের সঙ্গে ওই যুবকদের তুমুল তর্কাতর্কি শুরু হয়। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই তাঁরা রাস্তায় নমাজ পড়ার দাবিতে অনড় থাকেন।
পুলিশের দাবি, ওই যুবকেরা অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের দিকে তেড়ে আসেন এবং বলেন, “আমরা কিছু জানি না, রাস্তার উপরই নমাজ পড়ব।” ঘটনার জেরে গোটা রাজাবাজার চত্বরে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। যুবকদের একাংশ এই সময় স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। বেগতিক বুঝে প্রশাসন দ্রুত এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও সিআরপিএফ মোতায়েন করে।
অর্জুন সিং-এর মন্তব্য ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বরানগরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং সংবাদমাধ্যম ‘আজ তক’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “রাজ্যের রাস্তায় আর নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। মসজিদ প্রার্থনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে, মানুষের সেখানেই গিয়ে নমাজ পড়া উচিত।”
নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর প্রথম জুম্মার দিনেই সেই বার্তার প্রতিফলন দেখা গেল রাজাবাজারে। পুলিশি আপত্তির জেরে বেশ কিছুক্ষণ ধুন্ধুমার কাণ্ড চলার পর, পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয় এবং রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকা যুবকদের সেখান থেকে হটিয়ে দেয়। প্রশাসনের তরফে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং আইন কোনও ভাবেই হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।





