বাংলার শহরাঞ্চলকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করে তুলতে একগুচ্ছ বৈপ্লবিক ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে যে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল, তারই প্রতিফলন দেখা গেল পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নয়া কর্মসূচিতে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের ১২৮টি পুরসভার ভোল বদলে দিতে বড়সড় পরিকল্পনা পেশ করলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
এদিন বিধানসভায় মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এবার থেকে পুরসভাগুলির কাজে বিন্দুমাত্র স্বচ্ছতার অভাব বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি পুরসভা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং সরকারি প্রকল্পে বসানো হবে সিসিটিভি ক্যামেরা। এর ফলে কোন এলাকায় সাফাইয়ের কাজ কেমন হচ্ছে বা পুর-পরিষেবার হাল কী—তা সরাসরি রাজ্য দপ্তর থেকে মনিটরিং করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, কাজের গাফিলতি রুখতে এবার সরাসরি ওপর মহলের কড়া নজরদারি থাকবে পুর-প্রতিনিধি ও কর্মীদের ওপর।
তবে এদিনের সবথেকে বড় চমক ছিল ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ নিয়ে মন্ত্রীর বিশেষ ঘোষণা। অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বাংলাকে জঞ্জালমুক্ত করতে আধুনিক ‘জিও-ট্যাগিং’ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। খুব দ্রুত একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করতে চলেছে সরকার। এই অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষই হয়ে উঠবেন শহরের পাহারাদার। কোথাও রাস্তার ধারে বা জনবহুল স্থানে আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখলে, তার ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার ঠিক ১২০ মিনিট বা ২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে যাবে সাফাই গাড়ি এবং আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে।
শহরের জঞ্জাল মুক্তির পাশাপাশি নারী ও শিশু নিরাপত্তার বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি দপ্তরগুলিতে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার ডেডিকেটেড হেল্পলাইন ও আধুনিক কল সেন্টার চালু করা হচ্ছে। মহিলারা যেকোনো সমস্যায় বা অভিযোগ জানাতে এই পরিষেবার সাহায্য নিতে পারবেন এবং দ্রুত আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একইসঙ্গে শহরবাসীর দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা ‘বেআইনি পার্কিং’ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “রাজ্যের কোথাও ভুয়ো পার্কিং বিল দেখিয়ে টাকা তোলা যাবে না। শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত জায়গাতেই গাড়ি রাখা যাবে। কেউ যদি সাধারণ মানুষকে ভুয়ো রসিদ ধরিয়ে টাকা চায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু সরকারের এই ‘ক্লিন সিটি, সেফ সিটি’ মডেল আদতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর একটি প্রচেষ্টা। স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনে বাংলার পুর-ব্যবস্থা কতটা স্বচ্ছ হয়, এখন সেটাই দেখার। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপে সাধারণ মানুষ যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, তেমনই খুশি পরিবেশপ্রেমীরাও।





