বারুদের স্তূপে শ্মশানের নিস্তব্ধতা! দেওয়াসে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে লাশের পাহাড়, ধৃত মালিক

মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলার টঙ্কালান গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। একটি অবৈধ বাজি কারখানায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কারখানার কংক্রিটের দেওয়াল ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং নিহত শ্রমিকদের শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ বিস্ফোরণস্থলের ২০-২৫ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে অনবরত বাজি ফাটার শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা উদ্ধারকাজে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ধীরাজ, সানি এবং সুমিত নামে তিন শ্রমিকের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অমর এবং গুড্ডু নামে আরও দুই শ্রমিককে নিকটবর্তী অমলতাস হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদেরও মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, ওই দুই শ্রমিকের শরীরের ৯৯ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল, যার ফলে তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃতদের মধ্যে চারজন বিহারের এবং একজন উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভেতরে ২০ জনেরও বেশি শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে এবং আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক শ্রমিককে জ্বলন্ত শরীরের অবস্থাতেই কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। কারখানার বাইরে পোড়া চামড়া, দেহাংশ এবং বারুদের স্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। পুলিশ ইতিমধ্যেই কারখানার মালিক অনিল মালভিয়া এবং ম্যানেজার এজাজ খানকে গ্রেপ্তার করেছে। টঙ্খুর্দ থানায় চারজনের বিরুদ্ধে নামসহ এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে নেমে প্রশাসন চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে। জানা গেছে, ওই কারখানায় মাত্র ১৫ কেজি বারুদ এবং ৬০০ কেজি আতশবাজি রাখার লাইসেন্স ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কয়েক টন বিস্ফোরক অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। আরও অভিযোগ উঠেছে যে, দৈনিক মাত্র ৪০০ টাকা মজুরিতে বিহার থেকে নাবালকসহ বহু শ্রমিককে নিয়ে এসে সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হতো। গত ৩১শে মার্চ কারখানার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও ৬ই মে তা পুনর্নবীকরণ করা হয়। প্রশ্ন উঠছে, মাঝে এক মাস কীভাবে কারখানাটি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলল? স্থানীয়দের দাবি, গত মার্চ মাসেও একবার এখানে ছোট বিস্ফোরণ ঘটেছিল, কিন্তু প্রশাসন তখন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy