উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন। প্রয়াত সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র এবং অখিলেশ যাদবের ভাই প্রতীক যাদবের আকস্মিক মৃত্যুতে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। বুধবার সকালে লখনউয়ের বাড়ি থেকে তাঁর অচৈতন্য দেহ উদ্ধার হয়। সকাল ৬টা নাগাদ তাঁকে স্থানীয় সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, ৩৮ বছর বয়সি প্রতীককে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
যাদব পরিবারের এই সদস্যের অকালপ্রয়াণে ইতিমধ্যেই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে ওয়াকিবহল মহল। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে বিষক্রিয়ার জেরে মৃত্যুর সম্ভাবনা উসকে দিলেও, প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভাইয়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দিয়েছেন।
ফিটনেস দুনিয়ার তারকা ছিলেন প্রতীক মুলায়ম সিং যাদবের দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা গুপ্তার সন্তান ছিলেন প্রতীক। তাঁর স্ত্রী অপর্ণা যাদব বর্তমানে বিজেপি নেত্রী তথা উত্তরপ্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশনের সহ-সভাপতি। পরিবারের প্রায় সবাই সক্রিয় রাজনীতিতে থাকলেও, প্রতীক নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসা এবং জিম বা ফিটনেস জগতের সঙ্গেই তাঁর নাড়ির যোগ ছিল। এক সময় ১০৩ কেজি ওজন কমিয়ে ৬৭ কেজিতে নামিয়ে এনে নজর কেড়েছিলেন তিনি। এমনকি ফিটনেস নিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা ও পশুপ্রেমী হিসেবেও পরিচিতি ছিল।
ব্যক্তিগত জীবনে টানাপোড়েন ও জল্পনা ২০১১ সালে অপর্ণার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রতীক। চলতি বছরের শুরুর দিকে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরার খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতীক নিজেই মানসিক চাপ এবং অপর্ণার সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা জানিয়েছিলেন। এমনকি বিচ্ছেদের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। যদিও পরবর্তীকালে সেই সম্পর্ক স্থিতিশীল হয়েছিল বলে দাবি ঘনিষ্ঠ মহলের।
রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা ও বাস্তব ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির অন্দরে প্রতীককে প্রার্থী করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যবসাতেই মনোনিবেশ করেন। রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও অপর্ণার বিজেপিতে যোগদান এবং সমাজবাদী পরিবারের ছেলে হিসেবে তাঁর অবস্থান রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চিত ছিল।
প্রতীকের এই রহস্যময় মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে লখনউয়ের রাজনৈতিক মহলে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে ঠিক কী ঘটেছিল বুধবারের সেই ভোরে।





