২০২৬ সালটি ভারতের ছাত্রসমাজের কাছে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। একের পর এক পরীক্ষা ঘিরে নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশে অহেতুক বিলম্ব—সব মিলিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে এই বছরটি যেন এক শাস্তিতে পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র পক্ষ থেকে। গত ৩রা মে আয়োজিত হয়েছিল নিট ইউজি (NEET UG) ২০২৬। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ১২ই মে সেই পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর স্বপ্ন এক নিমেষে চুরমার হয়ে গিয়েছে। পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা হলেও, দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর মানসিক এবং আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া এবং পুনরায় পরীক্ষার খরচ বহন করা সাধারণ পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য এক দুর্বিষহ বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল নিয়ে চলছে এক অদ্ভুত টালবাহানা। গত চার দিন ধরে ডিজিলকার এবং উমাং অ্যাপে ‘কামিং সুন’ স্ট্যাটাস ঝুলে থাকলেও, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের নাম নেই। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা পরীক্ষার্থীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয় যে, তারা ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ কমাতে বদ্ধপরিকর, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তার ঠিক উল্টো চিত্র তুলে ধরছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ফলাফল প্রকাশের ট্র্যাডিশন এবার যেন যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ১৭ই মে জেইই অ্যাডভান্সড (JEE Advanced) পরীক্ষা। একদিকে নিট বাতিলের খবরে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেছে, অন্যদিকে দ্বাদশ শ্রেণির রেজাল্ট না আসায় অ্যাডভান্সড পরীক্ষার্থীদের ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জেইই এবং নিট—উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা মেধাবী পড়ুয়াদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। প্রশাসনিক এই শিথিলতা কি তবে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত? প্রশ্ন উঠছে সব মহলে। ২০২৬-এর এই বিশৃঙ্খলা কেবল একটি পরীক্ষা বাতিল নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কপালে এক বড় কলঙ্ক তিলক এঁকে দিল।





