বাবার প্রেমিকা গৌরীকে কী বলে ডাকেন আমির-পুত্র? দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরক জুনায়েদ!

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানের পেশাগত জীবনের চেয়েও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা বরাবরই তুঙ্গে। দুই প্রাক্তন স্ত্রী রিনা দত্ত ও কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং বর্তমানে গৌরী স্প্র্যাটের (Gauri Spratt) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যখন মায়ানগরী সরগরম, ঠিক তখনই বোমা ফাটালেন আমিরের বড় ছেলে জুনায়েদ খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের পরিবার, বাবার নতুন প্রেমিকা এবং দুই প্রাক্তন মায়ের সঙ্গে তাঁর বর্তমান সমীকরণ নিয়ে খুল্লামখুল্লা আলোচনা করলেন ‘এক দিন’ খ্যাত এই অভিনেতা।
আমির খানের জীবনে গৌরী স্প্র্যাটের প্রবেশ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে জল্পনা চলছে। অনুরাগীদের মনে বড় প্রশ্ন ছিল, আমিরের সন্তানেরা বাবার এই নতুন সম্পর্ককে কীভাবে দেখছেন? জুনায়েদ স্পষ্ট জানালেন, গৌরীকে নিয়ে তাঁর কোনও তিক্ততা নেই। জুনায়েদের কথায়, “গৌরী খুবই মিষ্টি এবং ভালো মনের মানুষ। বাবা যখন তাঁর সম্পর্কের কথা মিডিয়ার সামনে আনেন, তার কতদিন আগে থেকে আমি জানতাম সেটা আজ মনে নেই। তবে দিনশেষে বাবা কার সঙ্গে থাকবেন সেটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি বাবার জন্য এবং গৌরীর জন্য সত্যিই খুব খুশি।” গৌরীকে তিনি নাম ধরেই সম্বোধন করেন বলে জানান জুনায়েদ।
অন্যদিকে, আমিরের দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাওয়ের সঙ্গে জুনায়েদের রসায়ন বরাবরই নজরকাড়া। আমির ও কিরণের বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও তাঁদের বন্ধুত্বে যে চিড় ধরেনি, তা জুনায়েদের কথাতেই স্পষ্ট। তিনি জানান, এক সময় তিনি কিরণকে ‘আন্টি’ বলে ডাকতেন। কিন্তু তাঁর বয়স যখন ১৫-১৬ বছর, তখন কিরণ নিজেই তাঁকে নাম ধরে ডাকার অনুরোধ করেন। জুনায়েদ আরও যোগ করেন, “আমরা সবাই একে অপরের থেকে মাত্র ১০০ মিটারের দূরত্বে থাকি, তাই যোগাযোগ রাখা খুব সহজ ছিল। কিরণ অত্যন্ত উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ।”
শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ সন্তানদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন জুনায়েদ। যখন আমির ও রিনা দত্তর বিবাহবিচ্ছেদ হয়, তখন জুনায়েদের বয়স মাত্র ৭ বা ৮ বছর। অভিনেতা জানান, ছোটবেলায় এই জটিলতা তিনি সেভাবে অনুভব করেননি। জুনায়েদের মতে, “অসুখী দাম্পত্যে তিলে তিলে শেষ হওয়ার চেয়ে আলাদা থেকে সুখী বাবা-মা পাওয়া অনেক ভালো। দুজন ভালো মানুষ সবসময় একসঙ্গে ভালো না-ও থাকতে পারেন।” ১৯ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে মতপার্থক্য দেখেছিলেন বলে দাবি করেন জুনায়েদ। বর্তমানে আমিরের এই জটিল অথচ বন্ধুত্বপূর্ণ পারিবারিক কাঠামো বলিউডপাড়ায় এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।