চিকিৎসা পরিষেবায় এক বড়সড় বদল দেখছে তিলোত্তমা। রাজ্যের দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গেও বাস্তবায়িত হতে চলেছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ (AB-PMJAY)। এর ফলে আপনার কাছে থাকা আয়ুষ্মান কার্ডটি দিয়ে এখন কলকাতার সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেশ কিছু নামী বেসরকারি হাসপাতালেও ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব।
কলকাতার কোন কোন বড় হাসপাতালে মিলবে এই সুবিধা? তদন্তে জানা গেছে, বর্তমানে কলকাতার একাধিক মাল্টি-স্পেশালিটি এবং সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো:
অ্যাপোলো মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল (কাঁকুড়গাছি)
মণিপাল হসপিটাল (প্রাক্তন মেডিকা, ইএম বাইপাস)
পিয়ারলেস হাসপাতাল (পঞ্চসায়র)
মণিপাল হসপিটাল (প্রাক্তন আমরি – ঢাকুরিয়া ও মুকুন্দপুর)
এইচসিজি ক্যানসার সেন্টার (নিউ টাউন)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সেস (মুকুন্দপুর)
এএসজি আই হসপিটাল (বিটি রোড, টলিগঞ্জ)
কী কী সুবিধা পাবেন এই কার্ডে? আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় কার্ডধারীরা বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবীমা পান। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো: ১. ক্যাশলেস চিকিৎসা: হাসপাতালে ভর্তির জন্য কোনো টাকা জমা দিতে হবে না। ২. প্রাক-বিদ্যমান রোগ: কোনো পুরনো অসুখ থাকলেও প্রথম দিন থেকেই তা কভার হয়। ৩. সব বয়সের জন্য: পরিবারে সদস্য সংখ্যা বা বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। বিশেষ করে ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণদের জন্য রয়েছে আলাদা অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকার সুরক্ষা।
রাজ্যজুড়ে কি কার্ড পাওয়া যাচ্ছে? ২০২৬-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমঝোতায় এখন এই প্রকল্প পুরোদমে চালু হচ্ছে। যারা ইতিমধ্যেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তারা বিশেষ কিছু যোগ্যতার ভিত্তিতে আয়ুষ্মান কার্ডের জন্যও আবেদন করতে পারছেন। এমনকি ভারতের যে কোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে এই কার্ড দিয়ে চিকিৎসা করানো যাবে।
কীভাবে খুঁজবেন আপনার কাছের হাসপাতাল? আপনার এলাকায় আর কোন কোন নার্সিংহোম বা হাসপাতাল এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত, তা জানতে আয়ুষ্মান ভারতের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (pmjay.gov.in) অথবা সরকারি হেল্পলাইন নম্বর ১৪৫৫৫-এ যোগাযোগ করতে পারেন।
আপনার পকেটে কি আয়ুষ্মান কার্ড আছে? আজই চেক করে নিন তালিকার লেটেস্ট আপডেট।





