আরজি করের নির্যাতিতার সুবিচারের আশায় যখন গোটা রাজ্য চাতক পাখির মতো তাকিয়ে, তখনই কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় রদবদল ঘটে গেল। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের পর এবার সময়ের অভাবের কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়াল বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার এই নাটকীয় মোড় ঘিরেই তোলপাড় শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে।
কেন সরে দাঁড়াল ডিভিশন বেঞ্চ? মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা স্পষ্ট জানান, আদালতের হাতে থাকা অন্যান্য মামলার চাপের কারণে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দীর্ঘ শুনানির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমিও চাই এই মামলায় সঠিক বিচার হোক। কারণ শুধু পরিবার নয়, সাজাপ্রাপ্ত এবং সিবিআই—সবার আবেদনই গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।” বিস্তারিত শুনানির পথ প্রশস্ত করতেই মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আদালত একটি বিশেষ কমিশন গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছে।
সিবিআই রিপোর্টে অসন্তোষ? এদিন আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই একটি মুখবন্ধ খামে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেয়। তবে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীরা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, সিবিআই নতুন কোনও সদর্থক তদন্ত করছে না। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে।
তদন্তে নতুন মুখ আইনি লড়াইয়ের এই টানাপোড়েনের মাঝেই আরজি কর কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন ৭ জনকে তলব করেছে সিবিআই। সিবিআই সূত্রে খবর, এই সাতজনের বয়ান মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে রাজপথ থেকে আদালত—সবই উত্তপ্ত।
বিচারপতি মান্থা জানিয়েছেন, রাজ্যের মানুষ এই মামলার ফলের অপেক্ষায় আছেন, তাই স্বচ্ছ এবং পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত করাই আদালতের লক্ষ্য। এখন প্রধান বিচারপতি এই মামলাটি কোন নতুন বেঞ্চে পাঠান এবং শুনানির ভবিষ্যৎ কী হয়, সেটাই দেখার।





