আগামী সপ্তাহে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের কথা রয়েছে। কিন্তু সেই মেগা সম্মেলনের মাত্র কয়েক দিন আগেই চিনের ওপর বড়সড় আঘাত হানল আমেরিকা। ইরানের সঙ্গে যোগসাজশ এবং মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার আশঙ্কায় একাধিক চিনা সংস্থার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাইডেন-পরবর্তী ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ট্রেজারি বিভাগ যৌথভাবে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের তালিকায় থাকা চারটি কোম্পানির মধ্যে তিনটিই চিনের। অভিযোগ, এই কোম্পানিগুলো ইরানকে এমন অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনার গতিবিধি শনাক্ত করতে সাহায্য করেছিল। শুধু তাই নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন কর্মসূচিতেও রসদ জোগানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চিনা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে।
মার্কো রুবিওর হুঁশিয়ারি:
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছেন, “চিনা সংস্থাগুলো ইরানকে যে মদত দিচ্ছে, তার জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। যারা ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমেরিকা সমস্ত প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
নিষেধাজ্ঞার কবলে কারা?
মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর আরও ১০ জন ব্যক্তি ও সংস্থাকে তাদের কালো তালিকায় যুক্ত করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই চিনের। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, এই নেটওয়ার্কটি ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও প্রযুক্তি পাচার করত। সম্প্রতি ইরানের অপরিশোধিত তেল কেনার অপরাধেও বেশ কিছু চিনা তেল শোধনাগারের ওপর খড়গহস্ত হয়েছে ওয়াশিংটন।
চিনের পালটা তোপ:
এদিকে আমেরিকার এই পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বেজিং। চিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে এই ‘একতরফা নিষেধাজ্ঞা’ তারা মানবে না। চিনা সংস্থাগুলোকে এই নির্দেশিকা উপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে শি জিনপিং সরকার। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের বেজিং সফরের ঠিক আগে এই টানাপোড়েন দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল। এখন দেখার, বৈঠকে বসে ট্রাম্প ও শি এই বরফ গলাতে পারেন কি না।





