রাজস্থানের ভিলওয়ারা শহরে গুটখা নিয়ে একটি তুচ্ছ বিবাদ যে এমন বীভৎস রূপ নিতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার দাদাবাড়ি এলাকার কোলি মহল্লায় এক যুবককে প্রথমে তলোয়ার নিয়ে ধাওয়া এবং পরে জনসমক্ষেই গলায় ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে এক দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বর্তমানে ভিলওয়াড়া জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত যুবকের নাম সোনাল কোলি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কোলি মহল্লায় গুটখা কেনা বা খাওয়া নিয়ে অপর এক যুবকের সঙ্গে সোনালের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ তর্কাতর্কির পর্যায়ে থাকলেও, মুহূর্তের মধ্যে তা হিংসাত্মক রূপ নেয়। অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবক আচমকাই মেজাজ হারিয়ে নিজের বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং একটি ধারালো তলোয়ার বের করে আনে।
সোনাল জানিয়েছেন, প্রাণভয়ে তিনি ওই এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তলোয়ার হাতে মরীয়া ওই দুষ্কৃতী জনাকীর্ণ রাস্তার মধ্যেই তাঁকে তাড়া করতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া করার পর, তলোয়ার দিয়ে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্ত পকেট থেকে একটি ছুরি বের করে। এরপর সুযোগ বুঝে ভিড়ের মধ্যেই সোনালের গলায় আমূল ছুরি চালিয়ে দেয় সে। রক্তাক্ত অবস্থায় সোনাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত সোনালকে উদ্ধার করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের ট্রমা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর গলায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং রক্তক্ষরণ বেশি হওয়ায় অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়েই ভীমগঞ্জ থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে সোনালের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) সুনীল চৌধুরী জানিয়েছেন, “সামান্য গুটখা নিয়ে ঝগড়ার জেরে এই প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছি। তাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের বিশেষ দল গঠন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।” বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। তবে এই নক্ক্যারজনক ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





